খেলা
রিয়ালকে বিধ্বস্ত করে ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে পিএসজি
ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে রীতিমতো ঝড় তুলেছে প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি)। টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদকে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে ফরাসি লিগ ওয়ানের ক্লাবটি। আসছে সোমবার ফাইনালে তারা মুখোমুখি হবে ইংলিশ ক্লাব চেলসির সঙ্গে।
এই ম্যাচে বিশেষ নজরে ছিলেন কিলিয়ান এমবাপে। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে এই প্রথমবার মাঠে নামেন নিজের সাবেক ক্লাব পিএসজির বিপক্ষে। কিন্তু সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে নিজের নতুন অধ্যায়টা যে এতটা বাজেভাবে শুরু হবে, তা হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি ফ্রান্সের এই তারকা ফরোয়ার্ড। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে হওয়া ম্যাচে এমবাপে ছিলেন প্রায় নিষ্প্রভ, আর তার দল রিয়াল মাদ্রিদ পরিণত হয় পিএসজির আক্রমণের সামনে অসহায় প্রতিপক্ষ হিসেবে।
ম্যাচের শুরু থেকেই দারুণ ছন্দে ছিল পিএসজি। প্রথম ৯ মিনিটেই তারা এগিয়ে যায় ২-০ গোলে। ষষ্ঠ মিনিটে রাউল আসেনসিওর বাজে কন্ট্রোলের সুযোগ নিয়ে বল কুড়িয়ে নেন ওসুমানে ডেম্বেলে। তার প্রথম শট রুখে দেন রিয়ালের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া, তবে ফিরতি বলে সহজেই ফাঁকা জালে পাঠান স্প্যানিশ মিডফিল্ডার ফাবিয়ান রুইজ।
তিন মিনিট পর অ্যান্তোনিও রুডিগারের ভুল পাসের সুযোগে ডেম্বেলে একক প্রচেষ্টায় ডি-বক্সে ঢুকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে কোর্তোয়াকে পরাস্ত করেন।
২৪তম মিনিটে আসে পিএসজির তৃতীয় গোল। এইবার ডান দিক থেকে দৌড়ে এসে আশরাফ হাকিমির কাছ থেকে বল পেয়ে রিয়ালের রক্ষণকে বোকা বানিয়ে দুর্দান্ত ফিনিশে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন রুইজ।
পুরো ম্যাচজুড়েই রিয়াল মাদ্রিদ কার্যকর কোনো আক্রমণ গড়তে পারেনি। বরং শেষদিকে আরও একবার বল জালে পাঠিয়ে জয়টা দৃষ্টিনন্দন করে তোলেন বদলি খেলোয়াড় গঞ্জালো রামোস। ৮৭তম মিনিটে তার নিখুঁত শট রিয়ালের ভরাডুবিতে শেষ ছাপ আঁকে।
রিয়াল কোচ জাবি আলোনসোর কৌশল নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞায় ডিফেন্ডার ডিন হুইসেন ও ইনজুরির কারণে ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার-আর্নল্ডকে হারানোয় আলোনসো তার সাধারণ পাঁচ ডিফেন্ডারের রক্ষণভাগ থেকে সরে এসে চার-জনের রক্ষণে ফিরেছিলেন। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি ব্যর্থ হয়, এবং পিএসজির আক্রমণভাগের বিপক্ষে তা অসহায় প্রমাণিত হয়।
এর আগে গত মাসে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে ইন্টার মিলানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল পিএসজি। সেখান থেকেই পাওয়া আত্মবিশ্বাস ধরে রেখেই রিয়ালের বিপক্ষে মাঠে নামে তারা। এই টুর্নামেন্টে শেষ ষোলোতেও পিএসজি ৪-০ গোলে পরাজিত করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মিয়ামিকে।
সব মিলিয়ে টানা দুই ম্যাচে ৮ গোলের পাশাপাশি কোনো গোল হজম না করে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে আছে পিএসজি। এখন দেখার বিষয়, ফাইনালে চেলসির বিপক্ষে তারা একই দাপট ধরে রাখতে পারে কিনা।