খেলা

মানব পাচারের শিকার থেকে বিশ্বকাপের নায়ক: দিয়ালোর অবিশ্বাস্য উত্থানের গল্প


স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ১১:৫৬ এএম

মানব পাচারের শিকার থেকে বিশ্বকাপের নায়ক: দিয়ালোর অবিশ্বাস্য উত্থানের গল্প
ছবিঃ সংগৃহীত

বিশ্বকাপের মঞ্চে এক গোলই বদলে দিতে পারে একটি ম্যাচ, এমনকি একজন ফুটবলারের জীবনকাহিনিও নতুন করে তুলে ধরতে পারে বিশ্বের সামনে। ২০২৬ বিশ্বকাপে ইকুয়েডরের বিপক্ষে আইভরি কোস্টের জয়ের নায়ক হয়েছেন আমাদ দিয়ালো। তবে তার জয়সূচক গোলের পেছনে লুকিয়ে আছে মানব পাচার, পরিচয় সংকট ও সংগ্রামের এক হৃদয়বিদারক ইতিহাস।

বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘ই’-এর ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে শেষ মুহূর্তে গোল করেন দিয়ালো। তার একমাত্র গোলেই আইভরি কোস্ট ১-০ ব্যবধানে হারায় ইকুয়েডরকে। ফলে বিশ্বকাপ মিশন জয় দিয়েই শুরু করে আফ্রিকার দেশটি।

বর্তমানে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড–এর হয়ে খেলা দিয়ালোর জীবন শুরু থেকেই ছিল সংগ্রামে ভরা। ২০১৫ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি ইতালিতে পৌঁছান। তবে ফুটবল ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন নিয়ে নয়, বরং মানব পাচার চক্রের শিকার হয়েই তার ইউরোপ যাত্রা।

সে সময় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে অভিবাসনের ঢলের সুযোগ নিয়ে কিছু চক্র আফ্রিকান শিশুদের ভুয়া নথিপত্রে ইউরোপে পাচার করত। অভিযোগ রয়েছে, দিয়ালোও সেই চক্রের মাধ্যমে ইতালিতে পৌঁছেছিলেন। ২০২০ সালে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ইতালিতে পৌঁছানোর পর তাকে সম্পূর্ণ ভুয়া পরিচয় দেওয়া হয়। নথিপত্রে যাদের তার বাবা-মা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল, বাস্তবে তাদের তিনি চিনতেন না। এমনকি বর্তমান ফুটবলার হামেদ জুনিয়র ত্রাওরেকে কাগজে-কলমে তার ভাই দেখানো হয়েছিল, যদিও পরে প্রমাণিত হয় তাদের মধ্যে কোনো রক্তের সম্পর্ক নেই।

সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো, দিয়ালো আজও জানেন না তার প্রকৃত বা জন্মদাতা বাবা-মা কারা। শৈশবের এমন নির্মম বাস্তবতা ও পরিচয় সংকটের মধ্য দিয়েও তিনি হার মানেননি। বরং নিজের জন্মভূমি আইভরি কোস্টের প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নেন।

আর সেই দেশকেই বিশ্বকাপের মঞ্চে স্মরণীয় এক জয় উপহার দিলেন তিনি। শেষ মুহূর্তের জাদুকরী গোলে ইকুয়েডরকে হারিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নেয় আইভরি কোস্ট। এখন তাদের সামনে অপেক্ষা করছে শক্তিশালী জার্মানির চ্যালেঞ্জ।

মানব পাচারের অন্ধকার থেকে বিশ্বকাপের আলোয় উঠে আসা আমাদ দিয়ালোর গল্প কেবল একজন ফুটবলারের নয়; এটি প্রতিকূলতাকে জয় করার এক অনুপ্রেরণামূলক ইতিহাস।