খেলা
২৩ বার কাঁপল জাল ভাঙার চেষ্টা, একা হাতে ইরানকে বাঁচিয়েছেন যিনি
ম্যাচের শুরুতেই রোমেলু লুকাকুর শক্ত আঘাতে বুকে চোট পান ইরানের গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দ। ব্যথায় কিছুক্ষণ মাঠে শুয়ে থাকতে হলেও হাল ছাড়েননি তিনি। চিকিৎসা শেষে মাঠে ফিরে যে অসাধারণ গোলকিপিং প্রদর্শন করলেন, তা বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় পারফরম্যান্স হিসেবেই জায়গা করে নিল।
গতকাল রবিবার (২১ জুন) ‘জি’ গ্রুপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে তারকাখচিত বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোলশূন্য (০-০) ড্র করেছে ইরান। আর এই ফলের নেপথ্যের নায়ক বেইরানভান্দ। ম্যাচজুড়ে বেলজিয়ামের একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে ম্যাচসেরার (ম্যান অব দ্য ম্যাচ) পুরস্কারও জিতেছেন ৩৩ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক।
ম্যাচে ৭০ শতাংশ বলের দখল ছিল বেলজিয়ামের। গোলমুখে তারা নেয় মোট ২৩টি শট, যার মধ্যে ৭টি ছিল লক্ষ্যে। অবিশ্বাস্য দক্ষতায় প্রতিটি শটই প্রতিহত করেন বেইরানভান্দ। বিশেষ করে মাক্সিম ডি কাইপারের একাধিক নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে তিনি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন।
১১ মিনিটে ডি কাইপারের জোরালো শট, প্রথমার্ধের শেষ দিকে তার ভলি এবং ৬০ মিনিটে মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থায় এক হাতে করা দুর্দান্ত সেভ—সব মিলিয়ে বেইরানভান্দ যেন পোস্টের নিচে অদৃশ্য দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়ের চার মিনিট আগে আবারও ডি কাইপারের শক্তিশালী শট ঝাঁপিয়ে রুখে দিয়ে ইরানের ক্লিন শিট নিশ্চিত করেন তিনি। গোলকিপিংয়ের পাশাপাশি ১১টি নিখুঁত লং বল ও ৩টি সফল হাই ক্লেইম করে রক্ষণভাগেও বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগান এই অভিজ্ঞ ফুটবলার।
অন্যদিকে বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়াও দারুণ পারফর্ম করেন। ১৪ ও ৫৩ মিনিটে মেহদি তারেমির দুটি বিপজ্জনক শট ঠেকিয়ে দলকে রক্ষা করেন তিনি। ২৫ মিনিটে এহসান হাজিসাফির ফ্রি-কিক থেকে তারেমি বল জালে জড়ালেও ভিএআর পর্যালোচনায় অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।
ম্যাচের ৬৬ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় বেলজিয়াম। শেষ ডিফেন্ডার হিসেবে ভুল করে বসা নাতাঁ উঙ্গয় বল হারিয়ে পেছন থেকে তারেমিকে ফাউল করলে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। এরপর প্রায় ২৫ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলেও ইরানের রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি ইউরোপিয়ান দলটি।
এই ড্রয়ের ফলে বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় ম্যাচেও সমতায় মাঠ ছাড়ে বেলজিয়াম। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-২ ড্রয়ের পর বেলজিয়ামকে রুখে দিয়ে দুই ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে ‘জি’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে এসেছে ইরান। সমান ২ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বেলজিয়াম, আর এক ম্যাচ করে খেলা নিউজিল্যান্ড ও মিশরের সংগ্রহ ১ পয়েন্ট।
আগামী শনিবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ইরান মুখোমুখি হবে মিশরের, আর বেলজিয়াম খেলবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে কখনও নকআউট পর্বে না ওঠা ইরানের সামনে এবার নতুন ইতিহাস গড়ার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। আর সেই স্বপ্নের সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে উঠেছেন গোলবারের নিচে অদম্য প্রহরী আলিরেজা বেইরানভান্দ।