খেলা

হামজাকে দেখেই বাংলাদেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন এডাম আব্বাসের


স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম

হামজাকে দেখেই বাংলাদেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন এডাম আব্বাসের
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয় দলে হামজা চৌধুরীর মতো প্রবাসী ফুটবলারদের খেলা অনুপ্রাণিত করেছে এডাম আব্বাসকে। সেই অনুপ্রেরণা থেকেই বাংলাদেশের জার্সিতে মাঠে নামার স্বপ্ন দেখেছেন অনূর্ধ্ব-২০ দলের এই নতুন মুখ। দেশের হয়ে খেলার সুযোগ পেয়ে এখন বড় মঞ্চে ভালো করার প্রত্যয় তার।
  
আজ রবিবার (০৯ আগস্ট) শোরের শামসুল হুদা ফুটবল একাডেমিতে দলের আবাসিক ক্যাম্পে অনুশীলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এডাম আব্বাস। এ সময় তিনি বাংলাদেশের হয়ে খেলার অনুভূতি, দলের প্রস্তুতি এবং নিজের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে কথা বলেন।  

বাংলাদেশের জার্সিতে মাঠে নামার অনুভূতি জানিয়ে এডাম আব্বাস বলেন, ‘বাংলাদেশের হয়ে ফুটবল মাঠে নামতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। জাতীয় দল, সহকারী কোচিং স্টাফ এবং টেকনিক্যাল টিম যেভাবে কঠোর পরিশ্রম করছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।’

বাংলাদেশের হয়ে খেলার অনুপ্রেরণার বিষয়ে এডাম বলেন, হামজা চৌধুরীর মতো ফুটবলারদের জাতীয় দলের জার্সিতে খেলতে দেখেই তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছেন। তাদের পথ অনুসরণ করেই বাংলাদেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন আরও দৃঢ় হয়েছে বলে জানান তিনি।

এডাম বলেন, বাংলাদেশের ফুটবলে প্রবাসী খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে। জাতীয় দলের হয়ে ভালো করার পাশাপাশি নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করাই এখন তার অন্যতম লক্ষ্য।

আসন্ন এএফসি এশিয়ান কাপসহ আন্তর্জাতিক বড় মঞ্চে ভালো করাই দলের মূল লক্ষ্য বলে জানান এডাম। তার মতে, দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে। সবাই যদি ঐক্যবদ্ধভাবে কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যেতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ জাতীয় দল বড় সাফল্য অর্জন করতে পারবে।

এদিকে অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচ জেরার্ড এমলিন জোন্সও দলের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদী। দীর্ঘ সময় ধরে অনুশীলন করায় খেলোয়াড়দের সক্ষমতা ও পারফরম্যান্স ভালোভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।

কোচ বলেন, শুধু আসন্ন প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখেই নয়, ভবিষ্যতে অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-২০ পর্যায়ের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোর প্রস্তুতিকেও পরিকল্পনার মধ্যে রাখা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে খেলোয়াড়দের ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত করতে চান তারা।

প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দলটি চারটির বেশি অনুশীলন ম্যাচ খেলেছে। এসব ম্যাচে খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা, কৌশলগত অবস্থান, দলীয় সমন্বয় এবং চাপের মধ্যে খেলার সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে বলে জানান জোন্স।

নতুন করে দলে যোগ দেওয়া এডাম আব্বাসকেও নিয়ে আশাবাদী কোচ। জেরার্ড এমলিন জোন্সের ভাষায়, এডাম অত্যন্ত পেশাদার, বিনয়ী এবং শেখার মানসিকতাসম্পন্ন একজন ফুটবলার। নতুন পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি অনুশীলনে নিজের সামর্থ্যও দেখাচ্ছেন তিনি।

এডামকে আরও দক্ষ খেলোয়াড় ও কার্যকর গোলদাতা হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান কোচ। তার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ দলে একজন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার হিসেবে গড়ে তোলাই এখন কোচিং স্টাফের লক্ষ্য।

হামজা চৌধুরীর হাত ধরে প্রবাসী ফুটবলারদের বাংলাদেশের জার্সিতে খেলার আগ্রহ যেমন বাড়ছে, তেমনি এডাম আব্বাসের মতো তরুণদের আগমনও দেশের ফুটবলে নতুন আশার সঞ্চার করছে। এখন মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে সেই আস্থার প্রতিদান দেওয়ার অপেক্ষায় এই তরুণ ফুটবলার।