ক্যাম্পাস

ছয় বছর পর ডাকসুর জিএস হতে পারেন রাশেদ খাঁন


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০২:০৮ পিএম

ছয় বছর পর ডাকসুর জিএস হতে পারেন রাশেদ খাঁন
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে বড় ধরনের অনিয়ম ও প্রার্থিতা সংক্রান্ত জটিলতা আবারো আলোচনায় এসেছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে নির্বাচিত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর প্রার্থিতা অবৈধ ছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে গোলাম রাব্বানী যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেননি। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট তার ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিল করে। বৈধ ছাত্রত্ব না থাকায় তার প্রার্থিতাও অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে।

এ অবস্থায়, যদি গোলাম রাব্বানীর প্রার্থিতা বাতিল হয়, তবে ওই নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বাধিক ভোট পাওয়া গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁনকে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) হিসেবে ঘোষণা করার সুযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, “গোলাম রাব্বানী শিক্ষার্থীদের ভোটে নয়, বরং কারচুপির মাধ্যমে জিএস নির্বাচিত হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা কখনোই ছাত্রলীগকে সমর্থন করেনি। আমাদের প্যানেল ১১টি পদে জয়ী হলেও কেবল দুই পদে বিজয় ঘোষণা করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর হলেও ন্যায়বিচারের আলো দেখতে পাচ্ছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই, তারা আমার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে।”

তদন্ত প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে নানা ধরনের অনিয়ম হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল ভোট কারচুপি, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে বাধা, কেন্দ্র দখল, কৃত্রিম লাইন তৈরি, অবৈধভাবে ভর্তি হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ, ব্যালট পেপারে জালিয়াতি এবং ব্যালট বাক্সে কারচুপি। তবে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরো গভীর তদন্ত প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

২০১৯ সালের ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে জয়ী হয়েছিলেন নুরুল হক নুর। তিনি ১১ হাজার ৬২ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, যিনি পেয়েছিলেন ৯ হাজার ১২৯ ভোট।

অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে গোলাম রাব্বানীকে ১০ হাজার ৪৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। আর দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা রাশেদ খাঁন পেয়েছিলেন ৬ হাজার ৬৩ ভোট।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট যদি চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, তবে নির্বাচনের প্রায় ছয় বছর পর ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব নিতে পারেন রাশেদ খাঁন। এতে ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচন ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্ক নতুন মোড় নিতে যাচ্ছে।