ক্যাম্পাস

ইউল্যাব শিক্ষার্থী তানহার মৃত্যু: প্রেমিককে দায়ী করছে পরিবার ও সহপাঠীরা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৪২ পিএম

ইউল্যাব শিক্ষার্থী তানহার মৃত্যু: প্রেমিককে দায়ী করছে পরিবার ও সহপাঠীরা
প্রেমিক সায়মন (বামে) এবং তানহা বিনতে বাশার। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এর শিক্ষার্থী তানহা বিনতে বাশারের মৃত্যুকে ঘিরে শোক ও ক্ষোভে ভাসছে পরিবার ও সহপাঠীরা। তাদের অভিযোগ, প্রেমিক সায়মনের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনই সম্ভাবনাময় এই তরুণীর মৃত্যুর কারণ। তারা সায়মনের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেছেন।

ব্যবসায়ী বাবা আবুল বাশার বলেন, “বাবা, আমার মন ভালো নেই। তুমি ঢাকায় আসো, আমাকে নিয়ে যাও।” — মৃত্যুর আগে এটাই ছিল তানহার শেষ কথা তার বাবার সঙ্গে। তিনি বলেন, “উচ্চশিক্ষার জন্য মেয়েকে ঢাকায় পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু আজ তার লাশ আমাকে বয়ে নিতে হচ্ছে। আমার মেয়ের মৃত্যুর জন্য সায়মনই দায়ী।”

সহপাঠী ও প্রতিবেশীদের ভাষ্য, কুমিল্লার বাসিন্দা তানহা ও সায়মন কলেজ জীবন থেকেই প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। পরে সায়মন ইউল্যাবে ভর্তি হলে, তানহাকেও সেখানে ভর্তি হতে উৎসাহ দেন। কিন্তু সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে সম্প্রতি তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়।

মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রফিক জানান, গত সোমবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিংয়ের ‘স্বপ্নচূড়া’ নামের একটি ফ্ল্যাট থেকে তানহার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রেমঘটিত কারণে তানহা আত্মহত্যা করেছেন।”

ওসি আরও জানান, তানহার মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হলেও, পরবর্তীতে এটি আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় রূপ নিতে পারে।

ঘটনার পর থেকেই সায়মন পলাতক। পুলিশ বলছে, তানহার মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে, যা সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হবে- সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রমাণ খুঁজে পেতে।

তানহার সহপাঠীরা বলছেন, “তানহা সবসময় হাসিখুশি মেয়ে ছিল। এমন সিদ্ধান্ত সে নিতে পারে, তা আমরা কল্পনাও করিনি। আমরা চাই, এই ঘটনার পূর্ণ তদন্ত হোক এবং দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করা হোক।”