ক্যাম্পাস
ঢাবিতে সমকামীতার অভিযোগ
‘শয়তানের ধোঁকায় পড়ে শুরু করেছিলাম, দেখে ফেলায় শেষ করতে পারিনি’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে সমকামী কর্মকাণ্ডের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হল সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ইব্রাহীম খলিলের কক্ষে অবস্থান করা দুই বহিরাগতকে ঘিরে এ অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ প্রেক্ষিতে হল প্রশাসন ইব্রাহীম খলিলের আবাসিক সিট সাময়িকভাবে বাতিল করেছে এবং তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গত ২৭ জুলাই ওই কক্ষে থাকা দুই যুবক অনৈতিক ও সমকামী আচরণের বিষয়টি স্বীকার করছেন এবং ভিডিওটি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন।
এজিএসের রুমমেট ও হলের আবাসিক শিক্ষার্থী অনয় চৌধুরী এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে দাবি করেন, ওই দিন দুই অতিথি কক্ষে ওঠেন এবং পরে তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখা যায়। উপস্থিত শিক্ষার্থীরা ঘটনার কিছু অংশ ধারণ করলেও সংবেদনশীলতার কারণে পুরো ভিডিও প্রকাশ করা হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে নিরাপত্তার স্বার্থে প্রত্যক্ষদর্শীদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।
সমালোচনার মুখে ইব্রাহীম খলিল নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে জানান, ঘটনাটি তার কক্ষে ঘটলেও এ বিষয়ে তিনি কিছু জানতেন না। চিকিৎসার প্রয়োজনে ঢাকায় আসা পরিচিতদের মানবিক কারণে থাকতে দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনার সময় তিনি কক্ষে উপস্থিত ছিলেন না বলেও জানান এবং ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সহায়তার আশ্বাস দেন।
অভিযোগের বিষয়ে তিনি একটি অডিও কল রেকর্ডও দেন, যেখানে এক অতিথিকে বলতে শোনা যায়, ‘শয়তানের ধোঁকায়’ পড়ে তারা এমন কাজে জড়াতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু তা সম্পন্ন করার আগেই ধরা পড়ে যান। একই অডিওতে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছার কথাও উঠে আসে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে শহীদুল্লাহ হলের এজিএস নির্বাচিত হন ইব্রাহীম খলিল। তিনি সংগঠনটির সক্রিয় কর্মী বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় তার সিট সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার সত্যতা যাচাই শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে হলের পুকুরপাড়ে জড়ো হয়ে মিছিল ও বিক্ষোভ করেন একদল শিক্ষার্থী।