রাজধানী
‘আপনাদের মেয়ে আর নেই’, মধ্যরাতে শাশুড়িকে ফোন দিয়ে জামাই উধাও (ভিডিও)
ঢাকার শেওড়াপাড়ায় ফাহমিদা তাহসিন কেয়া (২৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, স্বামী সিফাত আলী (৩০) তাকে হত্যা করে রাতের আঁধারে ফোনে মৃত্যুর খবর জানিয়ে পালিয়ে গেছেন।
বুধবার (১৩ আগস্ট) দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে কেয়ার মা নাজমা বেগমের মোবাইলে কল দিয়ে সিফাত বলেন, "কেয়া আর নেই, এখনই আমাদের বাসায় আসেন।" কিছুক্ষণের মধ্যে আবার জানান, কেয়াকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে—কখনো বলেন ঢাকা মেডিকেল, কখনো পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে।
পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে পৌঁছে কেয়ার মরদেহ পান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সিফাতের গাড়িচালক, এক কাজের ছেলে এবং তার বন্ধু মারুফ নেওয়াজ প্রেম। তবে স্বামী সিফাত ছিলেন না। প্রেম তখন কেয়ার মাকে জানান, "আপনার মেয়েকে সিফাত মেরে ফেলেছে, আমরা সাক্ষী দেবো।"
কেয়ার বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, "ডাক্তাররা জানায় কেয়া আর বেঁচে নেই। এরপর সিফাতের সঙ্গে থাকা সবাই হাসপাতাল ছেড়ে চলে যায়। মরদেহ পরে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়।"
তিনি আরও বলেন, "সিফাত খুব রাগী, মেয়েকে প্রায়ই মারধর করত, এমনকি সন্তানদের সামনেও। কেয়া একসময় জানিয়েছিল সংসার ছাড়তে চায়, আমি বলেছিলাম বাচ্চাদের কথা চিন্তা করে মানিয়ে নিতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিফাত তাকে শেষ করে দিলো।"
কেয়ার চারটি সন্তান রয়েছে—যাদের মধ্যে বড় মেয়ে ভিকারুননিসা স্কুলে পড়ে, আর ছেলেরা আদমজী ক্যান্টনমেন্ট স্কুলে। কেয়ার গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখেছেন বলেও জানান তার বাবা।
এ বিষয়ে মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাত রোমান জানান, "খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা এখনই বলা যাচ্ছে না। সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।"