রাজধানী

মাঠ কাঁপানো ফুটবলার থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন, শেষ বিদায়ে শোকের পরিবেশ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম

মাঠ কাঁপানো ফুটবলার থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন, শেষ বিদায়ে শোকের পরিবেশ
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে গুলিতে নিহত খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনের মরদেহ নিজ জেলা যশোর-এ দাফন করা হয়েছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে শহরের খড়কি আপনমোড় এলাকায় তার বাড়িতে মরদেহ পৌঁছালে স্বজনদের কান্নায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পরে রাতেই কারবালা কবরস্থানে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।

মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ঢাকা-র নিউ মার্কেট এলাকার পশ্চিম পাশে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসসংলগ্ন এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা টিটনকে গুলি করে হত্যা করে।

ঘটনার পরদিন নিহতের বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ৮-৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পরিবারের ধারণা, বসিলা পশুর হাটের ইজারা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। ঘটনার আগে টিটন তার ভাইকে জানান, কয়েকজনের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল এবং বিষয়টি সমাধানের জন্য তাকে বৈঠকে ডাকা হয়েছিল।

যশোরের সাবেক খেলোয়াড় ও রেফারি লাবু জোয়াদ্দার জানান, ‘টিটনের বাবা দুই দুটি বিয়ে করেন। দুই মায়ের ১২ সন্তানের মধ্যে টিটন প্রথম মায়ের সন্তান। ৯০ দশকের দিকে নাইমুর হাসান টিটন ও তার বড় ভাই রিপন দুজনেই যশোরের সেরা ফুটবলার ছিলেন। সাচ্চু ওস্তাদের নেতৃত্বে আমরা যারা ৯০ দশকে এই অঞ্চলে ফুটবলের নেতৃত্ব দিতাম; তাদের মধ্যে টিটন একজন। দুঃখজনক ঘটনা হলো নামকরা ফুটবলার থেকে সে অন্ধকার জগতে প্রবেশ করে। তার এই জগতে প্রবেশও ট্রাজেডি রয়েছে। তার উপর রাজনৈতিক হামলা হওয়াতে প্রতিশোধ পরায়ণ হয়েই সে ওই জগৎতে পা বাড়ায়।

১৯৯৯ সালের পর ঢাকায় গিয়ে আন্ডারওয়ার্ল্ডে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। একাধিক হত্যা মামলায় জড়িত থাকার পাশাপাশি অস্ত্র ও সোনাচালান নেটওয়ার্কের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। ২০০৪ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে এবং ২০১৪ সালে এক হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন। পরে ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট জামিনে মুক্তি পান।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন যশোরে অনুপস্থিত থাকার কারণে নতুন প্রজন্মের অনেকেই তাকে চিনতেন না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকবার তিনি নিজ এলাকায় আসেন।

নিউ মার্কেট থানার ওসি মোহাম্মদ আইয়ুব জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।