রাজধানী
রামিসার পাশের বাসা থেকে পাঁচ বছরের শিশু নিখোঁজ, সিসি ক্যামেরা ফুটেজে রহস্য
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই একই এলাকায় পাঁচ বছর বয়সী ইব্রাহিম নামে আরেক শিশুর রহস্যজনক নিখোঁজের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। চার দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো শিশুটির কোনো সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পরিবার জানায়, নিখোঁজ ইব্রাহিম তিন সন্তানের মধ্যে সবার ছোট। তার বাবা পেশায় ফুচকা বিক্রেতা। ঘটনার দিনও প্রতিদিনের মতো বাসার সামনে খেলছিল সে।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সন্ধ্যা ৭টা ২১ মিনিটে ইব্রাহিমকে ভবনের ভেতরে ঢুকতে দেখা যায়। তবে সে একা ছিল না—তার পেছনে একজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও ভবনে প্রবেশ করতে দেখা যায়। পরিবারের দাবি, কিছুক্ষণ পর ভেতর থেকে শিশুটির চিৎকার শোনা যায়। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই ওই ব্যক্তিকে দ্রুত বের হয়ে যেতে দেখা গেলেও ইব্রাহিমকে আর কোথাও দেখা যায়নি।
জানা গেছে, শিশুটির বাসা সম্প্রতি হত্যাকাণ্ডের শিকার রামিসার বাড়ি থেকে মাত্র তিনটি গলি দূরে। ভবনটির ছাদ তালাবদ্ধ ছিল এবং এর চাবি ছিল বাড়ির মালিকের কাছে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে শিশুটি কোথায় গেল, তা নিয়ে রহস্য আরও গভীর হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে তারা ওই এলাকায় বসবাস করছেন এবং কারও সঙ্গে তাদের কোনো বিরোধ নেই। তবে তাদের অভিযোগ, বাড়িওয়ালার দুই ছেলে দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত। টাকার জন্যই তারা পরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে অপহরণ করে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন পরিবার।
ইব্রাহিমের বাবা বলেন, কোনো শত্রুতা না থাকা সত্ত্বেও তাদের সন্তানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বাড়িওয়ালার ছেলেদের সন্দেহজনক কার্যকলাপ রয়েছে।
পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. এমদাদুল হক জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে এ পর্যন্ত বাড়িওয়ালার ছেলেদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ তাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দেওয়া হয়নি।
মিরপুর জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মোস্তাক সরকার জানান, প্রথমে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হলেও পরে বিষয়টির জটিলতা বিবেচনায় মামলায় রূপান্তর করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং কোনো সূত্র পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।