রাজধানী
বোর্ডিং পাস নিয়েও শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে উধাও মালয়েশিয়াগামী ৭১ যাত্রী
মালয়েশিয়াগামী একটি উড়োজাহাজে ভ্রমণের জন্য সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করেছিলেন ৭৬ জন যাত্রী। তবে শেষ মুহূর্তে পাঁচজনের ভিসা ও পাসপোর্টের তথ্যে অসংগতি ধরা পড়লে একে একে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন বাকি ৭১ জন। ফলে বোর্ডিং পাস নেওয়া ৭৬ জনের কেউই শেষ পর্যন্ত উড়োজাহাজে ওঠেননি।
শনিবার রাতে বিমান বাংলাদেশের ঢাকা-মালয়েশিয়া রুটের একটি ফ্লাইটে এ ঘটনা ঘটে। নির্ধারিত সময়েই উড়োজাহাজটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ওই ফ্লাইটে মোট ২৪৫ জন যাত্রীর ভ্রমণের কথা ছিল।
বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, বোর্ডিং গেটে পাঁচজন যাত্রীর ভিসা ও পাসপোর্টের তথ্যের অমিল ধরা পড়ায় তাদের যাত্রা বাতিল করা হয়। বিষয়টি অন্য যাত্রীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে একই ফ্লাইটের আরও ৭১ জন বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। এতে বোর্ডিং পাস নেওয়া ৭৬ জনের কেউই আর উড়োজাহাজে ওঠেননি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, যথাযথ যাচাই ছাড়া এসব যাত্রীকে বোর্ডিং পাস দেওয়া হয়েছিল। পরে বোর্ডিং গেটে পাঁচজনের ভিসা জাল বলে শনাক্ত হয়। এতে প্রশ্ন উঠেছে, একাধিক ধাপের নিরাপত্তা ও কাগজপত্র যাচাইয়ের পরও কীভাবে তারা বোর্ডিং গেট পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হলেন।
জানা গেছে, উড়োজাহাজে না ওঠা ৭৬ জনই ভ্রমণ ভিসায় মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তবে একটি ভ্রমণসেবা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেখানে অবস্থানের পরিকল্পনা ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বোর্ডিং চলাকালে কয়েকজন যাত্রীকে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাদের ভিসা নিয়ে জটিলতার বিষয়টি প্রকাশ পেলে লাইনে থাকা আরও কয়েকজন সরে যান। কিছুক্ষণ পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষও কয়েকজনকে যাত্রা থেকে বিরত রাখে।
এ ঘটনায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা এবং ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ দেখা দেওয়ায় কয়েকজন যাত্রীকে আগেই যাত্রার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাদের মধ্যে কয়েকজন মালয়েশিয়া হয়ে সৌদি আরবে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে জানা গেছে।