রাজধানী
পাঁচ দিক বিবেচনায় বসবাসের অযোগ্য রাজধানী ঢাকা
বিশ্বের সবচেয়ে কম বাসযোগ্য শহরের তালিকায় আবারও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) প্রকাশিত ২০২৬ সালের বৈশ্বিক বাসযোগ্যতা সূচকে ১৭৩টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৭১তম।
সোমবার প্রকাশিত এই সূচকে ঢাকার মোট স্কোর ১০০-এর মধ্যে ৪২। এর চেয়ে নিচে রয়েছে শুধু যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক (৩২) এবং লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি (৪১)। ২০২৫ সালের সূচকেও ঢাকার অবস্থান একই ছিল।
ইআইইউর মূল্যায়ন অনুযায়ী, ৮০ বা তার বেশি স্কোর পাওয়া শহরকে গ্রহণযোগ্য বাসযোগ্য এবং ৪০-এর নিচে স্কোর পাওয়া শহরকে অসহনীয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ৪২ স্কোর নিয়ে ঢাকা অসহনীয় শহরের সীমা অতিক্রম করলেও তা মাত্র সামান্য ব্যবধানে।
পাঁচটি সূচকে ঢাকার স্কোর হলো—
স্থিতিশীলতা: ৪৫
স্বাস্থ্যসেবা: ৪২
সংস্কৃতি ও পরিবেশ: ৪১
শিক্ষা: ৬৭ (সর্বোচ্চ)
অবকাঠামো: ২৭ (সর্বনিম্ন)
স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ, সামরিক সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিরতার ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবায় সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসাসেবার মান, ওষুধের প্রাপ্যতা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
সংস্কৃতি ও পরিবেশের সূচকে দুর্নীতির মাত্রা, সামাজিক ও ধর্মীয় বিধিনিষেধ, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ, জলবায়ু, খাবার ও অন্যান্য সেবার মান মূল্যায়ন করা হয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষার মান এবং অবকাঠামোতে সড়ক, গণপরিবহন, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, আবাসন, বিদ্যুৎ, পানি ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার মান বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে খারাপ বাসযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকার পর রয়েছে পাকিস্তানের করাচি (১৭০), আলজেরিয়ার আলজিয়ার্স (১৬৯), নাইজেরিয়ার লাগোস (১৬৮), পাপুয়া নিউগিনির পোর্ট মোরসবি (১৬৭), ইউক্রেনের কিয়েভ (১৬৬), জিম্বাবুয়ের হারারে (১৬৫) এবং ইরানের তেহরান (১৬৪)।
অন্যদিকে, বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ডেনমার্কের কোপেনহেগেন। এরপর রয়েছে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ও সিডনি, সুইজারল্যান্ডের জুরিখ ও জেনেভা, জাপানের ওসাকা, অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড, কানাডার ভ্যাঙ্কুভার এবং জাপানের টোকিও।
প্রতিবেদনটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, শিক্ষা খাতে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকলেও অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা, স্থিতিশীলতা এবং সংস্কৃতি-পরিবেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ সূচকে পিছিয়ে থাকায় ঢাকা এখনও বিশ্বের সবচেয়ে কম বাসযোগ্য শহরগুলোর একটি হিসেবেই রয়ে গেছে।