অপরাধ
স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মুছাব্বির হত্যার কারণ জানাল ডিবি
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় প্রাথমিকভাবে কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন আলামত যাচাই-বাছাই করে ডিবি পুলিশ দ্রুত আসামিদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এরপর ঢাকা, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর ও কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় একাধিক টিম অভিযান চালায়। অভিযানের ধারাবাহিকতায় দুই শুটারের একজনসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার শুটারদের একজনের নাম জিনাত, তার বাবার নাম আব্দুর রশিদ। হত্যাকাণ্ডের মূল সমন্বয়কারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বিল্লাল হোসেনকে, তার বাবার নাম শহিদুল্লাহ। এছাড়া শহিদুল্লাহর ভাই আব্দুল কাদের ঘটনার পর আসামিদের পালাতে সহায়তা এবং তাদের মোবাইল ফোন পরিবর্তনে সহযোগিতা করেন। তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডিবি জানায়, হত্যাকাণ্ডের আগে আসামিরা ঘটনাস্থলে রেকি করেছিল। এ কাজে সহায়তা করে রিয়াজ নামের একজন, তাকেও আটক করা হয়েছে। শুটার জিনাত ও বিল্লাল রাজধানীর মহাখালী এলাকায় বসবাস করতেন। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
হত্যার কারণ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে রাজনৈতিক কোনো প্রেক্ষাপট পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, কারওয়ান বাজারকেন্দ্রিক ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব থেকেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তবে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও অধিকতর তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
উল্লেখ্য, গত ৭ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ৮টার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের স্টার গলিতে দুর্বৃত্তরা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে পান্থপথের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা তেজগাঁও থানা রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান বেপারী মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন।