অর্থনীতি
ব্যাংক লোকসান করলে মালিকরা লভ্যাংশ ও কর্মকর্তারা বোনাস পাবে না: গভর্নর
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর স্পষ্ট করে দিয়েছেন- ব্যাংক যদি লোকসান করে, তাহলে সেই ব্যাংকের মালিকরা লভ্যাংশ পাবেন না এবং কর্মকর্তারাও কোনো বোনাস পাবেন না। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, টাকা পাচার কমে যাওয়ায় রিজার্ভ বাড়ছে এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ ২৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে দেশে ডলারের সংকট নেই, সংকট রয়েছে কেবল টাকার।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশি (সিএনআরবি) আয়োজিত ‘ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ: আসন্ন নির্বাচন, প্রবাসীদের অংশগ্রহণ ও আগামীর অর্থনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন গভর্নর।
তিনি বলেন, “গত কয়েক বছর দেশের অর্থনীতিতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। ব্যালেন্স অব পেমেন্টের সব খাতে এখন উদ্বৃত্ত দেখা যাচ্ছে যার অন্যতম কারণ হলো রেমিট্যান্স বেড়েছে এবং রপ্তানিতেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।”
গভর্নরের ভাষায়, “টাকা পাচারের ক্ষেত্রে হুন্ডির দাপট কমেছে। আগে প্রবাসী আয়ের প্রায় ৩০ শতাংশই হুন্ডির মাধ্যমে লিক হয়ে যেত। এখন সেই সুযোগ নেই। কমিশন বাণিজ্য ও অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে আমদানি করে অর্থ পাচার করার প্রবণতাও হ্রাস পেয়েছে। এসব পরিবর্তনের পেছনে সুশাসনের ভূমিকা রয়েছে।”
ব্যাংক খাতে সংস্কারের বিষয়ে গভর্নর বলেন, “যেসব ব্যাংকের মূলধন ১০ শতাংশের নিচে এবং যারা প্রভিশন ঘাটতিতে রয়েছে, তারা ডিভিডেন্ড বা বোনাস দিতে পারবে না। সেইসঙ্গে, কোনো ঋণ তিন মাস অনাদায়ী থাকলে সেটিকে ‘নন-পারফর্মিং লোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।”
টাকার বর্তমান অবস্থা প্রসঙ্গে গভর্নর জানান, “গত এক মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে এক বিলিয়ন ডলার কিনেছে, কিন্তু ডলারের দাম বাড়েনি। অর্থাৎ ডলারের কোনো সংকট নেই। তবে টাকার সরবরাহে কিছুটা টান রয়েছে, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা কাজ করছি।”
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ নিয়েও কথা বলেন তিনি। “চালসহ নিত্যপণ্যের কিছু দাম বাড়ায় আগস্টে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে। তবে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা সেই অনুযায়ী কাজ চলছে, যদিও এটি রাতারাতি সম্ভব নয়।”
ব্যাংক খাতের কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে গভর্নর জানান, সরকার ৫টি ব্যাংক একীভূত করার বিষয়ে কাজ করছে। রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) থেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হবে। আগামী এক-দুই বছরের মধ্যে এর ফল মিলবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সবশেষে গভর্নর বলেন, “এই একীভূত প্রক্রিয়া শুধু ব্যাংক ব্যবস্থাপনাকে নয়, বরং আমানতকারী ও কর্মকর্তাদের স্বার্থও সুরক্ষিত রাখবে।”