অর্থনীতি
ভাতার আওতা বাড়ানোর তাগিদ সিপিডির
সামাজিক ভাতাপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা অযোগ্য সুবিধাভোগীদের জন্য ব্যয় করা হচ্ছে। এটা প্রতিরোধ করা প্রয়োজন। প্রকৃত দুস্থ ও আর্থিকভাবে দুর্বলদের চিহ্নিত করতে দারিদ্র্য প্রবণ এলাকায় একটি জরিপ করা উচিত।
অন্যদিকে, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করা ও যথাযথ কাগজপত্রের অভাবে ৫ থেকে ৩০ শতাংশ ছাত্র-ছাত্রী উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাদেরকেও ওই সুবিধার আওতায় আনা প্রয়োজন। ভাতার ক্ষেত্রে এই অপব্যয় রোধ করা গেলে শতকরা ৪৫ শতাংশ প্রকৃত যোগ্যদের ভাতার আওতায় আনা সম্ভব।
রবিবার (৩০ এপ্রিল) রাজধানীর মহাখালীতে সিপিডি আয়োজিত এক সেমিনারে এসব তথ্য জানানো হয়।
এ সংক্রান্ত একটি গবেষণা পত্র উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড.খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।
সিপিডি জানায়, সামাজিক ভাতাপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ বয়স্ক ও ৩৩ শতাংশ বিধবা অযোগ্য সুবিধাভোগী রয়েছে। যার মাধ্যমে অযোগ্য সুবিধাভোগীদের জন্য ব্যয় হয় প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা। যা প্রতিরোধে কার্যকরী পারিবারিক জরিপ করা দরকার।
বর্তমানে বয়স্ক ও বিধবা ভাতার ক্ষেত্রে মাসে ৫০০ টাকা ও শিক্ষা উপবৃত্তির জন্য মাসে ১৫০ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
সামাজিক ভাতাপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ বয়স্ক ও ৩৩ শতাংশ বিধবা অযোগ্য সুবিধাভোগী রয়েছে। এদের মধ্যে আবার প্রায় ১২ শতাংশ পেনশন, ভিজিডি বা অন্যান্য ভাতা নিচ্ছে।
যোগ্য অসুবিধাভোগীদের ভাতার আওতায় আনতে অতিরিক্ত ৪ হাজার ৩০২ কোটি টাকা প্রয়োজন। এদিকে, অযোগ্যদের পেছনে ১৫০০ কোটি টাকা অপব্যবহার হচ্ছে। তা রোধ করে এ বিপুল পরিমাণ অর্থ যোগ্যদের পেছনে ব্যয় করা যেতে পারে। আর এই ১৫০০ কোটি টাকার মাধ্যমে প্রকৃত যোগ্য এমন ৪৫ শতাংশ ব্যক্তিকে ভাতার আওতায় আনা সম্ভব।
ড.খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম জানান, বর্তমান সুবিধাভোগীর প্রয়োজন বিবেচনায় টাকার পরিমাণ বাড়ানো অর্থাৎ ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা করা হলে অতিরিক্ত ৩ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা প্রয়োজন। কর ফাঁকি ও কর অস্বচ্ছতার মাধ্যমে প্রতি বছর সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। সেটা যদি আদায় করা সম্ভব হয় তাহলে সেখান থেকে অর্থ সংগ্রহ করে এ খাতে ব্যয় করা সম্ভব।
জেডএ/এমএমএ/