অর্থনীতি

চট্টগ্রাম বন্দরে ভোগ্যপণ্য খালাসে ধীরগতি, রমজানে সংকটের আশঙ্কা 


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:২৬ পিএম

চট্টগ্রাম বন্দরে ভোগ্যপণ্য খালাসে ধীরগতি, রমজানে সংকটের আশঙ্কা 
ছবিঃ সংগৃহিত

রমজান মাসকে সামনে রেখে আমদানি করা ভোগ্যপণ্য খালাসে দেখা দিয়েছে ধীরগতি। মূলত আমদানি বেড়ে যাওয়ায় লাইটার জাহাজের চাহিদা বেশি থাকায় এবং পণ্য সংরক্ষণে পর্যাপ্ত গুদাম না পাওয়ায় এ ধরনের অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত এসব জাহাজ থেকে ১১ লাখ টন ভোগ্যপণ্য খালাস করা হয়েছে। বন্দরে বহির্নোঙরে অবস্থানরত ৪৬টি জাহাজে মোট ভোগ্যপণ্যের পরিমাণ ২৩ লাখ ৪৬ হাজার টন।

খালাসের অপেক্ষায় ছিল প্রায় ১২ লাখ টন। এ ছাড়া ২৫টি গমবোঝাই জাহাজে আমদানি হয় সাড়ে ১৩ লাখ টন গম। খালাস হয়েছে ৬ লাখ টন। ছোলা, মসুর ডাল ও মটর ডালবোঝাই ৭টি জাহাজে আমদানি হয়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার টন, খালাস হয়েছে দেড় লাখ টন। ৯টি জাহাজে আছে ৪ লাখ ৩৯ হাজার টন তেলবীজ, যার মধ্যে খালাস হয়েছে তিন লাখ টন।

বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন বড় জাহাজ থেকে গড়ে ৫০-৬০ হাজার টন ভোগ্যপণ্য লাইটার জাহাজে স্থানান্তর করার পর বিভিন্ন ঘাটে নিয়ে গিয়ে খালাস করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভোগ্যপণ্যের আমদানি বাড়লেও অনেক প্রতিষ্ঠানের পর্যাপ্ত গুদাম নেই। এ কারণে লাইটার জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করতে সময় লাগছে।

আমদানি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে ৭ থেকে ১০ দিন সময় লাগে। কিন্তু লাইটার জাহাজের সংকটে এই সমস্যা আরও উসকে দিয়েছে। এখন সময় লাগছে ২০ থেকে ৩০ দিন। ফলে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ গুনতে হচ্ছে। 

বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেল (ডব্লিউটিসিসি) এর তথ্যমতে, দেড় মাস ধরে দেশের বিভিন্ন ঘাটে পণ্য খালাসের জন্য আটকে আছে ২৬৫টি লাইটার জাহাজ। এর মধ্যে ভোগ্যপণ্যবোঝাই লাইটার জাহাজ ১২২টি।

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, পণ্যগুলো সর্বোচ্চ তিন দিনের মধ্যে যেন তাদের গন্তব্যে চলে যায়, ব্যবসায়িক ফায়দার জন্য কেউ হয়তো এটা করতে পারে। তবে আমরা নজরদারি রেখেছি। বহির্নোঙ্গরে শুধু ভোগ্যপণ্য নয়, আটকে আছে বিভিন্ন শিল্পখাতের জরুরি কাঁচামালও।