অর্থনীতি

টানা দরপতনে বিশ্ববাজারে ৮ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন দামে সোনা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:২২ পিএম

টানা দরপতনে বিশ্ববাজারে ৮ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন দামে সোনা
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে টানা তৃতীয় দিনের মতো কমেছে সোনার দাম। মার্কিন বন্ডের মুনাফা বৃদ্ধি এবং ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার আরও বাড়তে পারে এমন পূর্বাভাসের প্রভাবে মূল্যবান এই ধাতুর দাম নেমে এসেছে গত আট মাসের সর্বনিম্ন স্তরে।

বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৪৯ মিনিট পর্যন্ত স্পট মার্কেটে সোনার দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৭৪ দশমিক ৭৫ ডলারে দাঁড়ায়। এর আগের দিনের লেনদেনে সোনার দাম কমে গত নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন ৩ হাজার ৯৪২ দশমিক ৯৯ ডলারে নেমেছিল। একই সময়ে আগস্টে সরবরাহযোগ্য মার্কিন সোনা ফিউচারের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৮৭ দশমিক ৭০ ডলারে পৌঁছায়।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ত্রৈমাসিক হিসাবেও সোনা লোকসানের মুখে পড়ে, যা ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর প্রথম।

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ব্যাপক বিক্রির ফলে ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের মুনাফা বেড়ে ৪ দশমিক ৪৬৫ শতাংশে উঠেছে। একই সঙ্গে শক্তিশালী ডলারের কারণে বিদেশি ক্রেতাদের জন্য সোনা কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ব্যাংক ইউবিএস-এর বিশ্লেষক জিওভানি স্টাউনোভো বলেন, ফেডের এক কর্মকর্তার মন্তব্যে সুদের হার আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এতে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমছে। পাশাপাশি সোনাভিত্তিক এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড থেকেও বিনিয়োগকারীরা অর্থ তুলে নিচ্ছেন।

এদিকে বাজার এখন যুক্তরাষ্ট্রের জুন মাসের এডিপি কর্মসংস্থান প্রতিবেদন এবং বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হতে যাওয়া নন-ফার্ম পেরোলস প্রতিবেদনের দিকে নজর রাখছে। এসব তথ্য ফেডের ভবিষ্যৎ সুদের হার নীতির দিকনির্দেশনা দিতে পারে।

অন্যদিকে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বার্ষিক সিন্ট্রা সম্মেলনও বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি কেড়েছে। সেখানে ফেডের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ এবং ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্ড বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও বাজারে প্রভাব ফেলছে। যুক্তরাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন দূতদের সঙ্গে বৈঠক না করার ইরানের ঘোষণায় অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

অন্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭ দশমিক ৭৫ ডলারে নেমেছে। প্ল্যাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৪২ দশমিক ৭০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ১৮৭ দশমিক ১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।