বিনোদন
‘শিক্ষার্থীদের চাপ দিয়ে পরীক্ষা নিলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের চাপ নিতে পারবেন তো?’
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আয়োজনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন সংগীতশিল্পী তাসরিফ খান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করেন এবং শিক্ষার্থীদের দাবিকে যৌক্তিক বলে উল্লেখ করেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তাসরিফ খান লেখেন, ‘শিক্ষার্থীদের জোর করে চাপ দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, সেই চাপ নিতে পারবেন তো?’
তিনি বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা এমনিতেই শিক্ষার্থীদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও চাপপূর্ণ একটি ধাপ। এর মধ্যে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত পরীক্ষার্থীদের কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
স্ট্যাটাসে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কয়েকটি পরীক্ষার তারিখ পিছিয়ে দিলে কী বড় ধরনের ক্ষতি হতো? তিনি উল্লেখ করেন, অনেক শিক্ষার্থী বৃষ্টিতে ভিজে ও জলাবদ্ধ রাস্তা পেরিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছেছে, যা তাদের জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে কষ্টকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
সরকারের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা কষ্ট সহ্য করে কী প্রতিক্রিয়া দেখাবে, সেটিও বিবেচনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিকে সম্মান জানানো এবং ভুল হলে তা স্বীকার করার মানসিকতা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে তাসরিফ খান শিক্ষার্থীদের আবেগ ও মানসিক অবস্থা বোঝার ওপর গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা বলেন।
এদিকে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাজধানীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আবার সায়েন্সল্যাবে ফিরে বিক্ষোভ চালান।
বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের উদ্দেশে রওনা হন।
শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখা, বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।