সারাবিশ্ব

ইন্দোনেশিয়ায় বিক্ষোভের জেরে মন্ত্রিসভায় রদবদল, বরখাস্ত ৫ মন্ত্রী


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৪:৪৩ পিএম

ইন্দোনেশিয়ায় বিক্ষোভের জেরে মন্ত্রিসভায় রদবদল, বরখাস্ত ৫ মন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

ইন্দোনেশিয়ায় চলমান জনরোষ ও দেশব্যাপী বিক্ষোভের মুখে বড় ধরনের রদবদল করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুনিয়ান্তো। সোমবার তিনি মন্ত্রিসভার পাঁচজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে বরখাস্ত করেছেন। বিক্ষোভের কেন্দ্রীয় কারণ হিসেবে সরকারের উদাসীনতা ও মন্ত্রীদের অতিরিক্ত ভাতা নিয়ে জনগণের ক্ষোভকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে প্রেসিডেন্ট প্রাবোওর প্রশাসন ও সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনার পরই পাঁচ মন্ত্রীকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সবচেয়ে আলোচিত নাম অর্থমন্ত্রী শ্রী মুল্যানি ইন্দ্রাবতী। তিনি এর আগে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) নির্বাহী পরিচালক এবং বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া বরখাস্ত হওয়া মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন রাজনীতি ও নিরাপত্তা বিষয়ক সমন্বয়কারী মন্ত্রী বুদি গুণাওয়ান, সমবায় মন্ত্রী, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী এবং অভিবাসী শ্রমিক সুরক্ষা মন্ত্রী।

নতুন অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার বীমা করপোরেশনের চেয়ারম্যান যুধি সাদেওয়া। দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “গত দুই প্রশাসনে আমি আর্থিক খাতে কাজ করেছি। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা করব।”

বিক্ষোভের পেছনে কারণ

২৮ কোটি ৫০ লাখ জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়া বর্তমানে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে। এর মধ্যেই সরকারের প্রতিনিধিদের মাসিক ৫ কোটি রুপিয়া আবাসন ভাতা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। এই ভাতা রাজধানী জাকার্তায় ন্যূনতম মজুরির প্রায় ১০ গুণ এবং গ্রামীণ এলাকায় আরও বেশি। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর গত আগস্টের শেষ দিকে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়।

মানবাধিকার সংস্থা দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট ন্যাশনাল জানিয়েছে, টানা পাঁচ দিনের বিক্ষোভে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দমন-পীড়ন ও অমানবিক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। তবে পুলিশের দাবি, বিক্ষোভে নিহত হয়েছেন ৭ জন।

সবচেয়ে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয় রাজধানী জাকার্তায়। সেখানে পুলিশের একটি গাড়ির ধাক্কায় এক ডেলিভারি চালকের মৃত্যু হলে আন্দোলন আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে।

তথ্যসূত্র : এপি ও আল-জাজিরা