সারাবিশ্ব
গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য আরও সময় প্রয়োজন: কাতার
ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও দখলদার ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত বন্ধে যুদ্ধবিরতির আলোচনা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে জানিয়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুদ্ধবিরতি অর্জনে এখনই কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ সম্ভব নয়।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এক বিবৃতিতে বলেন, “এ মুহূর্তে আমি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে পারি না। তবে এটুকু নিশ্চিতভাবে বলতে পারি—যুদ্ধবিরতির জন্য আমাদের আরও সময় প্রয়োজন।”
বর্তমানে কাতারের রাজধানী দোহায় হামাস ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা চলছে। এরইমধ্যে কিছু অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় ত্রাণ সহায়তা পাঠানো নিয়ে হামাস ও ইসরায়েল একমত হয়েছে, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে এখনো মতভেদ রয়ে গেছে, যার ফলে চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হতে সময় লাগছে।
এদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন। তিনি সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং বুধবার ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন, যুদ্ধবিরতি খুব শিগগিরই হতে পারে, এমনকি সামনের সপ্তাহে চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলেন। তবে কাতারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের আশাবাদ থাকলেও বাস্তবতা বলছে—এখনো অনেক আলোচনা বাকি।
উল্লেখ্য, হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাতে হাজারো মানুষের প্রাণহানি হয়েছে এবং গাজায় মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। যুদ্ধবিরতির এই প্রক্রিয়ায় কাতার ছাড়াও মিসর ও যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা পালন করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ ও কূটনৈতিক সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।