সারাবিশ্ব
গাজায় ট্যাঙ্ক বিস্ফোরণে তিন ইসরায়েলি সেনা নিহত
উত্তর গাজার জাবালিয়া এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণে তিন সেনা নিহত হয়েছে। সোমবার (স্থানীয় সময়) দুপুরে সাঁজোয়া কোরের একটি ট্যাঙ্কের ভেতরে বিস্ফোরণ ঘটলে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। নিহতদের সবাই ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সাঁজোয়া কোরের ৪০১তম ব্রিগেডে কর্মরত ছিলেন।
নিহত সেনারা হলেন—২১ বছর বয়সী স্টাফ সার্জেন্ট শোহার মেনাহেম (মোশাভ ইয়ার্দেনা), ২০ বছর বয়সী সার্জেন্ট শ্লোমো ইয়াকির শ্রেম (এফরাত), এবং ১৯ বছর বয়সী সার্জেন্ট ইউলি ফ্যাক্টর (রিশন ল্যাজিওন)। বিস্ফোরণে তাদের সঙ্গে থাকা আরও একজন অফিসার আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আইডিএফ।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, হামাসের ছোড়া অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিস্ফোরণটি ঘটে। তবে পরবর্তী তদন্তে আইডিএফ জানায়, এটি সম্ভবত একটি ‘অপারেশনাল দুর্ঘটনা’—অর্থাৎ ট্যাঙ্কের ভেতরেই একটি শেল (গোলা) অনিচ্ছাকৃতভাবে বিস্ফোরিত হয়। কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন সামরিক কর্মকর্তারা।
গাজার জাবালিয়ায় চলমান অভিযানে স্থানীয় হামাস ইউনিটকে নির্মূল এবং তাদের ব্যবহৃত অবকাঠামো ধ্বংসের উদ্দেশ্যে এই ব্রিগেড মোতায়েন করা হয়েছিল। এই বিস্ফোরণের ঘটনায় আইডিএফে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, গাজায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হামাসের আত্মগোপন কৌশল এবং ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে হঠাৎ আক্রমণ ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
আইডিএফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঘটনার প্রতিটি দিক গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে দায়ীদের চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় নিহত ইসরায়েলি সেনাদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮৯৩ জনে। এ সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকায় ইসরায়েলি জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে এবং সামরিক মহলে চাপ বাড়ছে টানা যুদ্ধ পরিচালনার কৌশল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে।
এ ঘটনাকে আইডিএফের জন্য একটি ‘চরম ধাক্কা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা গাজায় তাদের অভিযানের গতি ও মনোবলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।