সারাবিশ্ব

গাজা সিটি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন বাসিন্দারা


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:৪৮ এএম

গাজা সিটি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন বাসিন্দারা
ছবি: সংগৃহীত

গাজা সিটির আকাশে আবারও ঘুরছে যুদ্ধবিমান, নিচে পায়ে হেঁটে শহর ছাড়ছেন হাজারো মানুষ। ইসরায়েলি বাহিনীর ভাষায় এটাই তাদের “শেষ সুযোগ”।

বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সকাল থেকেই শহরজুড়ে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। সন্তানদের কোলে নিয়ে, বৃদ্ধদের কাঁধে ভর করে, ব্যাগে জীবনের সামান্য কিছু স্মৃতি নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন গাজাবাসীরা। গন্তব্য অজানা, কিন্তু লক্ষ্য একটাই বাঁচতে হবে।

বিগত দুই বছর ধরে উত্তরের গাজা সিটিতে থেকেও ইসরায়েলি হামলা মোকাবিলা করে টিকে ছিলেন হাজার হাজার ফিলিস্তিনি। কিন্তু চলমান আগ্রাসন এবং বাড়তে থাকা মানবিক বিপর্যয়ে অবশেষে হার মানতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

একজন বাসিন্দা জানান, “আমরা স্কুলে আশ্রয় নিয়েছিলাম। আজ ড্রোনগুলো স্কুলের ওপর ঘোরাফেরা করছিল। তারা আমাদের সতর্ক করছিল যে আমরা এখন যুদ্ধক্ষেত্রে আছি।”

আরেকজন বলেন, “যানবাহনের ব্যবস্থা নেই, টাকাও নেই। তাই পায়ে হেঁটেই পালাচ্ছি। জানি না কোথায় যাচ্ছি, শুধু জানি পেছনে ভয়াবহ গোলাবর্ষণ চলছে।”

গাজা সিটির বাজারগুলো এখন প্রায় শূন্য। খাদ্যসামগ্রীর অভাব প্রকট, নিত্যপণ্যের দাম ছুঁয়েছে আকাশ। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোও আর নিরাপদ নয়—যেকোনো মুহূর্তে বোমা পড়তে পারে। অনেকেই একসময় তাঁবুতে বসবাস করলেও সেগুলো এখন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি বাহিনী চালু করেছে তাদের ‘অপারেশন গিডিয়নস চ্যারিয়ট’-এর দ্বিতীয় ধাপ। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য, হামাসের হাত থেকে গাজা সিটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। আর সেই অভিযানের রেশেই চলছে লাগাতার হামলা।

জাতিসংঘের হিসেবে, এখনও গাজা শহরে রয়েছেন প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ মানুষ। তবে গেল কয়েক সপ্তাহে শহর ছেড়েছেন অন্তত ৪ লাখ ফিলিস্তিনি। এখন যারা আছেন, তারাও ধীরে ধীরে শহর ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।