সারাবিশ্ব

নেতানিয়াহুসহ ৩৭ ইসরায়েলি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তুরস্কের গ্রেফতারি পরোয়ানা


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:৩২ এএম

নেতানিয়াহুসহ ৩৭ ইসরায়েলি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তুরস্কের গ্রেফতারি পরোয়ানা
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক অভিযানের নামে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুসহ তার সরকারের ৩৭ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে তুরস্ক।

শুক্রবার (৭ নভেম্বর) তুরস্কের ইস্তাম্বুলের প্রধান সরকারি কৌঁসুলির দপ্তর থেকে এই পরোয়ানা জারি করা হয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন এবং টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পদক্ষেপকে গাজায় চলমান সংঘাতের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক আইনি প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নেতানিয়াহু ছাড়াও যেসব শীর্ষ ইসরায়েলি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ, জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গিভর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়া’আল জামিরসহ আরও অনেকে। পরোয়ানায় অভিযোগ আনা হয়েছে যে, তারা সম্মিলিতভাবে গাজায় অসংখ্য বেসামরিক মানুষের হত্যাকাণ্ডে জড়িত এবং গত সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক ত্রাণবাহী জোটের ‘ফ্লোটিলা’ বহরে হামলার মাধ্যমে মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত করেছেন।

তুরস্কের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এই অপরাধগুলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। আদালতের মতে, প্রমাণ যথেষ্ট পরিমাণে মজুত রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) সঙ্গে সহযোগিতা করে ভবিষ্যতে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

তবে ইসরায়েল এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদন সা’ বলেছেন, “তুরস্কের এই গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের রাজনৈতিক প্রচারণার অংশমাত্র। এটি আন্তর্জাতিক আইন বা ন্যায়বিচারের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, বরং একটি পিআর কৌশল।”

এদিকে তুরস্কের এই পদক্ষেপকে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রশংসা করেছে। তারা বলছে, এটি গাজার নিরীহ মানুষের ওপর চলমান হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের দাবিকে আরও জোরালো করবে।

গাজায় ইসরায়েলি অভিযানে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। আন্তর্জাতিক মহলের ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যেই তুরস্কের এই পদক্ষেপ ইসরায়েলি নেতৃত্বের জন্য নতুন কূটনৈতিক চাপে পরিণত হয়েছে।