সারাবিশ্ব
খামেনির মৃত্যুসংবাদ পড়তে গিয়ে লাইভ সম্প্রচারে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ইরানি উপস্থাপক
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–এর মৃত্যুসংবাদ পাঠ করতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক উপস্থাপক। সরাসরি সম্প্রচারে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাঠের সময় তাঁর কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে, চোখে পানি চলে আসে এবং একাধিকবার চোখ মুছতে দেখা যায় তাকে। এই দৃশ্য মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ইরানজুড়ে শোকের আবহ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
স্থানীয় সময় রোববার ভোরে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। এর এক দিন আগেই দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা শুরু হয় বলে জানানো হয়। সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর খবরে দেশটির রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক অঙ্গনে গভীর শোক নেমে আসে।
খামেনির মৃত্যুতে ইরান সরকার ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। এই সময়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি সীমিত আকারে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলোতে তাঁর জীবন, রাজনৈতিক দর্শন ও দীর্ঘ নেতৃত্বকাল নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান ও স্মরণিকা প্রচার করা হচ্ছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও খামেনির মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এর আগে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু–এর পর ইরানের সুপ্রিম লিডার নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাংলাদেশ সময় রোববার মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই দাবি করেন।
ওই পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘ইতিহাসের অন্যতম নিষ্ঠুর ব্যক্তি খামেনি মারা গেছেন। এটি শুধু ইরানের জনগণের জন্য নয়, বরং সেই সব মার্কিনি ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের জন্যও এক ধরনের প্রত্যাশিত বিচার—যাদের খামেনি ও তাঁর রক্তপিপাসু বাহিনীর হাতে প্রাণ হারাতে হয়েছে বা পঙ্গু হতে হয়েছে।’ তিনি আরও দাবি করেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও উন্নত ট্র্যাকিং ব্যবস্থার নজর এড়িয়ে খামেনির পালানোর কোনো সুযোগ ছিল না এবং ইসরাইলের সঙ্গে যৌথ অভিযানে তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
এই সব ঘটনার মধ্য দিয়ে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এক গভীর অনিশ্চয়তা ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। খামেনির মৃত্যুসংবাদ পাঠের সময় উপস্থাপকের কান্না সেই শোকেরই এক আবেগঘন প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন অনেকেই।