সারাবিশ্ব
খামেনির ছয়দিনের শেষ বিদায় শুরু শনিবার, আনুষ্ঠানিকতায় যা যা থাকছে
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছয়দিনব্যাপী শেষ বিদায় অনুষ্ঠান শনিবার (৪ জুলাই) তেহরানে শুরু হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হওয়ার চার মাসেরও বেশি সময় পর এই আনুষ্ঠানিকতা আয়োজন করা হচ্ছে।
ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি হতে যাচ্ছে ‘শতাব্দীর অন্যতম বৃহৎ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া’। এ উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় অনুষ্ঠান শুরু হবে। রোববার (৫ জুলাই) বিকেল পর্যন্ত সাধারণ মানুষ সেখানে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারবেন। এ সময় খামেনির কফিন একটি উঁচু মঞ্চে রাখা হবে এবং দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকবে, যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সবাই শ্রদ্ধা জানাতে পারেন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এই আয়োজন স্থানান্তর করা হবে তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত কোম শহরে। সেখানে জামকারান মসজিদে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে শিয়াদের জ্যেষ্ঠ আলেম ইমামতি করবেন।
পরদিন বুধবার (৮ জুলাই) খামেনির মরদেহ নেওয়া হবে ইরাকের নাজাফে। সেখান থেকে অন্ত্যেষ্টিযাত্রা শেষে কারবালায় ইসলামের খলিফা আলীর সমাধিস্থলে আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হবে। এরপর মরদেহ পুনরায় ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) খামেনিকে তার জন্মস্থান মাশহাদে দাফন করা হবে। শিয়া ইসলামের অষ্টম ইমামের সমাধিস্থল ইমাম রেজার মাজারেই তাকে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ইরানের অন্যতম প্রধান তীর্থস্থান।
দাফনের পর সারা দেশে ৪০ দিন শোক পালন করা হবে। পাশাপাশি প্রথম বার্ষিকী পর্যন্ত বিভিন্ন স্মরণসভা ও কর্মসূচির পরিকল্পনাও রয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরাকসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর অনুরোধে এসব কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে শিয়া মুসলিম বিশ্বে খামেনির প্রভাব ও ইরানের আঞ্চলিক সম্পর্ক তুলে ধরার প্রচেষ্টা রয়েছে।
এই আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পার্লামেন্ট স্পিকার ও মন্ত্রীরা অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদও এতে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এছাড়া প্রায় ৮০০ জন বিদেশি সাংবাদিক অনুষ্ঠানটি কভার করবেন।
জানাজার প্রতীক হিসেবে মুষ্টিবদ্ধ হাত এবং ‘আমাদের জেগে উঠতেই হবে’ স্লোগান নির্ধারণ করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।