সারাবিশ্ব
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলা চালাল ইরান, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যের কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি আল উদেদকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। এই হামলায় ঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে। আনাদোলু এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এটি ছিল তাদের ১৫তম দফার প্রতিশোধমূলক অভিযান।
আইআরজিসি দাবি করেছে, হামলায় মার্কিন বিমান ঘাঁটির একটি অত্যাধুনিক দীর্ঘপাল্লার রাডার ব্যবস্থা এবং কয়েকটি কৌশলগত জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। তারা আরও সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও যেসব আঞ্চলিক দেশ তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে, তারা সীমা অতিক্রম করলে ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হবে।
ইরান স্পষ্টভাবে জানায়, বেসামরিক স্থাপনা বা সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালানো হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে কঠোর মূল্য দিতে হবে। পাশাপাশি মার্কিন সামরিক তৎপরতা বন্ধ না হলে আরও কঠোর ও ধ্বংসাত্মক জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী পদক্ষেপ ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এদিকে কাতারের পক্ষ থেকে এখনো ইরানের দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য আসেনি। তবে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী আকাশপথে আসা হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। যদিও আকাশে ধ্বংস হওয়া ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্রের খণ্ডাংশ মাটিতে পড়ে এক শিশুর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এছাড়া ইরান দাবি করেছে, একই দিনে কুয়েত, ওমান, সিরিয়া, জর্ডান ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্য করে একযোগে হামলা চালানো হয়েছে। এসব স্থাপনার মধ্যে বিমান ঘাঁটি, রাডার ব্যবস্থা ও অস্ত্র গুদাম অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর থেকেই অঞ্চলটিতে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। গত মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি নাজুক সমঝোতা হলেও সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আবারও জটিল হয়ে উঠেছে।