সারাবিশ্ব
গাজায় গণহত্যায় সহায়তার অভিযোগ ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনির বিরুদ্ধে
গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনে সহায়তার অভিযোগ উঠেছে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির বিরুদ্ধে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) দায়ের করা এক অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ইসরায়েলকে প্রাণঘাতী অস্ত্র সরবরাহ করে ইতালি সরকার ফিলিস্তিনে গণহত্যায় অংশীদার হয়েছে।
বুধবার (৮ অক্টোবর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রধানমন্ত্রী মেলোনি স্বয়ং বিষয়টি স্বীকার করে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আরএআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তার এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো, উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানির বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া ইতালির সামরিক প্রযুক্তি কোম্পানি লিওনার্দোর প্রধান রবের্তো সিনগোলানিকেও এতে জড়িয়ে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন মেলোনি।
১ অক্টোবর রোমে দায়ের করা এই অভিযোগে ৫০ জন আইনজীবী, একাডেমিক ও মানবাধিকারকর্মী স্বাক্ষর করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, "ইসরায়েলকে সরবরাহ করা অস্ত্র গাজায় ব্যবহৃত হয়ে সাধারণ মানুষের ওপর গণহত্যার হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতালির সরকার মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধে সহায়তা করেছে।"
আইসিসি এখনও অভিযোগটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছে কিনা তা জানায়নি।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুসারে, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ইসরায়েলের তিন বৃহৎ অস্ত্র সরবরাহকারী দেশের একটি ইতালি। বাকি দুটি যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি।
যদিও ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেছেন, সব অস্ত্র সরবরাহ হয়েছে ৭ অক্টোবরের (২০২৩) আগের চুক্তির ভিত্তিতে এবং সেগুলো যেন বেসামরিক মানুষের ওপর না পড়ে এমন নির্দেশনা ইসরায়েলকে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাজানি বলেছেন, বর্তমানে ইসরায়েলে সব ধরনের অস্ত্র রপ্তানি স্থগিত রয়েছে।
এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধেও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। একই সঙ্গে, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যার অভিযোগে মামলা করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।