সারাবিশ্ব
বিশ্বজুড়ে বিশৃঙ্খলায় সবচেয়ে ঝুঁকিতে গাজা ও সুদান
বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা এবং তহবিল সংকটের কারণে ২০২৬ সাল মানবিক ক্ষেত্রে ইতিহাসের সবচেয়ে বিপজ্জনক বছর হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি)।
সংস্থাটির প্রতিবেদনে গাজা ও সুদানের পরিস্থিতি নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান বিশৃঙ্খলা মানবিক সঙ্কটকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে সুদান ও ফিলিস্তিন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত জরুরি ওয়াচলিস্টের ২০২৬ সংস্করণে আইআরসি জানিয়েছে, ক্রমেই বিশ্বজুড়ে মানবিক সংকট বাড়ছে, কিন্তু সহায়তা তহবিল কমছে। এটি নির্দেশ করছে সামনে একটি 'নতুন বৈশ্বিক বিশৃঙ্খলা' আসছে।
সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট ডেভিড মিলিব্যান্ড বলেন, 'একটি বিশৃঙ্খলা আরও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। এই বছরের ওয়াচলিস্ট শুধু বিপর্যয়কর পরিস্থিতিরি নির্দেশক নয়, বরং একটি সতর্কবার্তা। এ বিষয়ে ক্ষমতাশীল দেশগুলোর জরুরি পদক্ষেপ ছাড়া ২০২৬ সাল হতে পারে সবচেয়ে বিপজ্জনক একটি বছর।'
প্রতিবেদনটি বলছে, এ সংকটের পেছনে রয়েছে বর্ধিত ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, পরিবর্তিত জোট ও চুক্তি। যা বিশ্বের দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তার পরিমাণও কমিয়ে দিচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তে ভেটো প্রদানের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া সুদান ও ফিলিস্তিনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে বিলম্বিত করেছে। উদাহরণ হিসেবে, সুদানে যুদ্ধবিরতি স্থাপনে রাশিয়ার বাধা এবং গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতির আগে যুক্তরাষ্ট্রের বারবার ভেটো দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নজরদারির তালিকায় মোট ২০টি দেশ রয়েছে। যার মধ্যে দক্ষিণ সুদান, ইথিওপিয়া, হাইতি, মিয়ানমার ও কঙ্গোও রয়েছে। যেখানে বিশ্বের জনসংখ্যার মাত্র ১২ শতাংশ বসবাস করে। কিন্তু বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩০ কোটি মানুষের মানবিক সাহায্য প্রয়োজন। যার মধ্যে ৮৯ শতাংশই রয়েছে এই দেশগুলোতে।
প্রতিবেদনটি সংকটের মাত্রা তুলে ধরে বলছে, বর্তমানে ১ কোটি ১৭ মিলিয়ন মানুষ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ৪ কোটি মানুষ চরম ক্ষুধা বা প্রাণনাশী খাদ্য সংকটের মুখোমুখি, তবুও মানবিক সহায়তা তহবিল ৫০ শতাংশ কমে গেছে।
যার ফলে, মানবিক সহায়তা প্রদানকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা বিতরণ করতে পারছে না।