সারাবিশ্ব
প্রবাসীদের জন্য বড় সুখবর দিল সৌদি আরব
এক সময় যা ছিল অকল্পনীয়, এখন তা-ই বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। সৌদি আরবের ধূ-ধূ মরুভূমির বুকে আধুনিক স্থাপত্যের যে বিস্ময় গড়ে উঠেছে, সেখানে নিজের এক চিলতে ছাদ বা একখণ্ড জমি পাওয়ার স্বপ্ন এখন আর কেবল স্থানীয়দের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।
ভাড়াবাড়ির অনিশ্চয়তা কাটিয়ে প্রবাসীরাও এখন হতে পারবেন বাড়ির মালিক।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সৌদি রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটি (রিগা) আনুষ্ঠানিকভাবে নন-সৌদিদের রিয়েল এস্টেট মালিকানা বিধিমালা কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে।
ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’-এর অংশ হিসেবে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার ফলে এখন থেকে সৌদি আরবে বসবাসরত বা অনাবাসী বিদেশিরাও সম্পত্তির মালিকানা লাভ করতে পারবেন।
আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়াতে প্রবর্তন করা হয়েছে ‘সৌদি প্রপার্টিজ’ নামক একটি বিশেষ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। যোগ্যতা যাচাই থেকে শুরু করে চূড়ান্ত নিবন্ধন—সবই হবে অনলাইনে। যাদের বৈধ আবাসন অনুমতি বা ‘ইকামা’ রয়েছে, তারা সরাসরি এই পোর্টালে আবেদন করতে পারবেন। আর যারা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, তারা সংশ্লিষ্ট দেশের সৌদি দূতাবাসের মাধ্যমে ডিজিটাল পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে আবেদনের সুযোগ পাবেন।
সব এলাকায় মালিকানার সুযোগ থাকলেও পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনার ক্ষেত্রে থাকছে বিশেষ কঠোর নিয়ম। সেখানে কেবল মুসলিম ব্যক্তি এবং শতভাগ সৌদি মালিকানাধীন কোম্পানি রিয়েল এস্টেট সুবিধা পাবে। এছাড়া রিয়াদ ও জেদ্দার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর জন্য আলাদা ভৌগোলিক জোনভিত্তিক নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে, যা ২০২৬ সালের শুরুতে ঘোষণা করা হতে পারে।
রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটির মুখপাত্র তাইসির আল মুফারেজ জানিয়েছেন, বিদেশি কোম্পানিগুলো ‘ইনভেস্ট সৌদি’ পোর্টালের মাধ্যমে নিবন্ধন করে মালিকানার আবেদন করতে পারবে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক ডেভেলপার ও উচ্চমানের বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করে দেশের আবাসন খাতের মান বিশ্বপর্যায়ে নিয়ে যাওয়া।
তবে কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এখনো কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্পকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়নি, তাই সরকারি তথ্যের বাইরে কোনো গুজবে কান দেওয়া যাবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে সৌদি আরবে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাড়বে এবং আবাসন খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।