সারাবিশ্ব
ফের আলোচনায় বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী: ২০২৬ সালে কি তবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ?
বর্তমান বিশ্বের অশান্ত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ভাইরাল হয়েছে প্রখ্যাত বুলগেরীয় ভবিষ্যদ্বক্তা বাবা ভাঙ্গা-র পুরনো কিছু সতর্কবার্তা। বিশেষ করে ২০২৬ সালে ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’ শুরু হওয়া সংক্রান্ত তার ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে চলছে জোর আলোচনা।
বাবা ভাঙ্গার আসল নাম পান্দেভা দিমিত্রোভা। ১৯১১ সালে বুলগেরিয়ায় জন্মগ্রহণকারী এই নারী মাত্র ১২ বছর বয়সে এক ভয়াবহ ঝড়ের কবলে পড়ে দৃষ্টিশক্তি হারান। লোকমুখে প্রচলিত আছে, দৃষ্টিশক্তি হারানোর পরেই তিনি এক অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হন, যার মাধ্যমে তিনি ভবিষ্যৎ দেখতে পেতেন। প্রায় ৫০ বছর ধরে নানা ঘটনার পূর্বাভাস দিয়ে ১৯৯৬ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বুলগেরীয় ভাষায় ‘বাবা’ শব্দটি বয়স্ক বা সম্মানীয় নারীদের সম্বোধনে ব্যবহৃত হয়।
বাবা ভাঙ্গা বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান তার বেশ কিছু মিলে যাওয়া ভবিষ্যদ্বাণীর জন্য। সমর্থকরা দাবি করেন: চেরনোবিল পারমাণবিক বিপর্যয়।
যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলা। প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যু। বিশ্বশক্তি হিসেবে চীনের উত্থান। এই ঘটনাগুলো আগেভাগে আঁচ করতে পারার দাবিই তাকে রহস্যময় করে তুলেছে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ইরান সংঘাত এবং পাকিস্তান-আফগানিস্তানের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাকে অনেকেই বাবা ভাঙ্গার ২০২৬ সালের ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন। তার অন্যতম কিছু উল্লেখযোগ্য প্রেডিকশন হলো:
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ: ২০২৬ সালে একটি বিশাল আন্তর্জাতিক সংঘাত বা বড় বড় শক্তিগুলোর মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা।
ভিনগ্রহের প্রাণী: একই বছরে ভিনগ্রহের প্রাণীর সঙ্গে মানবজাতির প্রথম যোগাযোগের সম্ভাবনা।
প্রযুক্তি ও এআই: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) অকল্পনীয় উন্নয়ন ও এর বৈশ্বিক প্রভাব।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাবা ভাঙ্গার অনেক ভবিষ্যদ্বাণীই ছিল অস্পষ্ট এবং সময়কাল নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, তার অনেক কথাই পরবর্তীকালে পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তাছাড়া তার বাণীর কোনো লিখিত দালিলিক প্রমাণ নেই, যার ফলে অনেক ক্ষেত্রে তথ্য বিকৃতির সুযোগ থাকে।
বাস্তবে বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের পেছনে প্রামাণ্য আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ ও রাজনৈতিক তথ্যই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। তবে মানুষের চিরন্তন কৌতূহল ও বর্তমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বাবা ভাঙ্গার এই অলৌকিক দাবিগুলো আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।