সারাবিশ্ব

রুশ তেল কিনলেই ভারত ও চীনের ওপরও ১০০% শুল্ক, মার্কিন সিনেটে বিল পাস


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৩ এএম

রুশ তেল কিনলেই ভারত ও চীনের ওপরও ১০০% শুল্ক, মার্কিন সিনেটে বিল পাস
ছবিঃ সংগৃহীত

রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কেনা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সুযোগ রেখে একটি বিল মার্কিন সিনেটে পাস হয়েছে। বিলটি আইনে পরিণত হলে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা ভারতের ওপরও বড় ধরনের শুল্ক আরোপ করতে পারবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে নয়াদিল্লির জন্য নতুন করে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে।

গতকাল শুক্রবার (০৭ আগস্ট) মার্কিন সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে বিলটি পাস হয়। এর আগে বিলটির পদ্ধতিগত বাধা অতিক্রমের ভোটেও ৮৬টি ভোট পড়েছিল পক্ষে এবং ১২টি বিপক্ষে। এখন বিলটি হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে পাঠানো হবে। সেখানেও পাস হলে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের পর এটি আইনে পরিণত হবে।

বিলের প্রস্তাব অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে তেল বা অন্যান্য জ্বালানি কিনছে—এমন দেশগুলোর পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে পারবে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, রাশিয়ার জ্বালানি কেনার মাধ্যমে এসব দেশ পরোক্ষভাবে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার সামরিক অভিযানে অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা করছে।

এই বিল কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারে রাশিয়ার বড় জ্বালানি ক্রেতা দেশগুলো। বর্তমানে রাশিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি তেল কেনে চীন। এরপরই রয়েছে ভারত। এ ছাড়া স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি, আজারবাইজান ও জাপানের মতো দেশও রুশ জ্বালানির ক্রেতার তালিকায় রয়েছে।

বিলটি পাস হলে এসব দেশ রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনা অব্যাহত রাখলে তাদের ওপর শুল্ক আরোপের সুযোগ পাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ফলে ভারতের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়া ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহকারী হয়ে উঠেছে।

মার্কিন উদ্যোগের পেছনে মূল লক্ষ্য হিসেবে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি থেকে পাওয়া রাজস্ব কমিয়ে আনা এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে মস্কোর অর্থনৈতিক সক্ষমতা দুর্বল করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। সিনেটে বিলটি পাসের পর ইউক্রেনের প্রতি সমর্থনের বার্তাও দিয়েছে ওয়াশিংটন।

এক মার্কিন সিনেটর বলেন, ‘আমরা ইউক্রেনের মানুষকে বলতে চাই, আপনারা একা নন। আমরা পুতিনকে বলতে চাই, আপনি কোনো দিন ইউক্রেন দখল করতে পারবেন না।’

এদিকে সম্ভাব্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক নিয়ে ভারতের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে এর আগে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত বিলটির দিকে নজর রাখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ভারতের জাতীয় স্বার্থ ও প্রায় ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানির চাহিদা বিবেচনা করেই এ বিষয়ে নীতি নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছিল নয়াদিল্লি।

তবে বিলটি এখনো পুরোপুরি আইনে পরিণত হয়নি। হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে এটি পাস হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বাক্ষর করলে তবেই নতুন শুল্ক আরোপের আইনি সুযোগ তৈরি হবে। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহে বিলটির পরবর্তী গতিপথ ভারতের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, আনন্দবাজার