সারাবিশ্ব

সব বন্ধ, এখান থেকে বাংলাদেশে কিছুই যাবে না : শুভেন্দু


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:২৭ পিএম

সব বন্ধ, এখান থেকে বাংলাদেশে কিছুই যাবে না : শুভেন্দু
শুভেন্দু অধিকারী। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ইস্যুতে ফের কড়া ভাষায় বক্তব্য দিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বাংলাদেশে হত্যাকাণ্ড ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে-তা স্পষ্ট না হলে আন্দোলন আরও তীব্র করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক বন্ধ করে দেওয়ার ব্যক্তিগত মতও প্রকাশ করেছেন শুভেন্দু।

মঙ্গলবার কলকাতায় বিজেপির রাজ্য দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে দীপু দাস হত্যার ঘটনায় হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, হিন্দুদের নিরাপত্তায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—এ বিষয়ে যতক্ষণ না বাংলাদেশ উপদূতাবাস থেকে পরিষ্কার উত্তর পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ আন্দোলন চলবে এবং আরও জোরদার হবে।”

কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার জানায়, ময়মনসিংহে দীপু দাস নামে এক যুবককে হত্যা করে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শুভেন্দুর এই কড়া অবস্থান।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, এবিভিপি ও হিন্দু জাগরণ মঞ্চসহ একাধিক উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের ডাকে কলকাতায় বাংলাদেশের উপদূতাবাস অভিযানের কর্মসূচি পালিত হয়। তবে উপদূতাবাসের সামনে পৌঁছানোর আগেই পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটকে দেয়। এ সময় বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয় এবং পুলিশ লাঠিচার্জ করে।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “উপদূতাবাসে আমাদের ঢুকতে দিয়ে যদি কথা বলা হয়, ভালো। আর কথা না বললে বাইরের রাস্তা আমাদের। আমরা যা করার করব। এখানে সুস্থভাবে কাজ করতে দেব না।” যদিও কী ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি।

পররাষ্ট্রনীতি কেন্দ্রীয় সরকারের বিষয়—এ কথা স্বীকার করলেও ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরে শুভেন্দু বলেন, “আমার ব্যক্তিগত মত, সব বন্ধ করে দেওয়া উচিত। কোনও কিছু এখান থেকে বাংলাদেশে যাবে না—সেই ব্যবস্থা করা উচিত।”

এ সময় তিনি আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সম্প্রতি বাংলাদেশের সঙ্গে সব কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা বলেছেন। শুভেন্দু বলেন, “আমি হিমন্তকে সম্পূর্ণ সমর্থন করি। সীমান্তবর্তী রাজ্য হিসেবে আমরা পরিস্থিতি সবচেয়ে ভালো বুঝি।”

অন্যদিকে এই ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তারা অভিযোগ করে, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কার্যত নিশ্চুপ।

তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর—এদের কেউই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেননি। দলটি আরও জানায়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাষ্ট্রনেতার মতো আচরণ করে কেন্দ্রকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন এবং জাতিসংঘের মাধ্যমে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফেরাতে শান্তিরক্ষী মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছেন।

তৃণমূল তাদের পোস্টে কটাক্ষ করে লেখে, “যে প্রধানমন্ত্রী সব সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয়, তিনি দীপু দাস হত্যাকাণ্ডে চুপ কেন? মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণেই কি এই নীরবতা?”

এছাড়া তৃণমূলের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা উসকে দিতেই বিজেপি নেতারা এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। দলটি স্মরণ করিয়ে দেয়, শুভেন্দু অধিকারী কয়েক মাস আগেই ইউনূস সরকারের প্রশংসা করেছিলেন।