সারাবিশ্ব
ভিক্ষাবৃত্তির আড়ালে সুদের ব্যবসা, ৩ বাড়ি ও ৪টি গাড়িসহ আছে সরকারি ফ্ল্যাটও
ভারতের ইন্দোরে ভিক্ষুকমুক্ত নগর গড়ার অভিযানে সামনে এসেছে বিস্ময়কর এক ঘটনা। শহরের ব্যস্ত সারাফা বাজারে দীর্ঘদিন ধরে ভিক্ষা করা এক শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি যে আসলে কোটিপতি- তদন্তে তা উঠে আসার পর চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ওই ব্যক্তির নাম মঞ্জিলাল। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) গভীর রাতে ভারতের নারী ও শিশু উন্নয়ন দপ্তরের একটি উদ্ধারকারী দল তাকে আটক করে। নিয়মিত ভিক্ষাবৃত্তি এবং কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত বলে তথ্যের ভিত্তিতে তাকে উদ্ধার করা হলেও পরবর্তী তদন্তে বেরিয়ে আসে ভিন্ন চিত্র।
কর্তৃপক্ষ জানায়, মঞ্জিলালের মালিকানায় রয়েছে তিনটি বাড়ি। এর মধ্যে একটি তিনতলা ভবন। এছাড়া তার রয়েছে তিনটি অটোরিকশা ও একটি মারুতি সুজুকি ডিজায়ার গাড়ি। প্রতিবন্ধী পরিচয়ে তিনি একটি এককক্ষের সরকারি ফ্ল্যাটও বরাদ্দ পেয়েছেন, যদিও ফ্ল্যাট পাওয়ার আগেই তার একাধিক সম্পত্তি ছিল।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, মঞ্জিলাল প্রকাশ্যে ভিক্ষা চাইতেন না। মানুষের সহানুভূতির ওপর নির্ভর করে নীরবে বসে থাকতেন এবং সেখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ রুপি আয় করতেন। তবে এই অর্থ তিনি শুধু সঞ্চয় করতেন না, বরং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের স্বল্পমেয়াদি সুদে ধার দিয়ে বিনিয়োগ করতেন।
কর্তৃপক্ষের ধারণা, তিনি চার থেকে পাঁচ লাখ রুপি ঋণ হিসেবে দিয়েছেন এবং সুদ বাবদ প্রতিদিন এক হাজার থেকে দুই হাজার রুপি পর্যন্ত আয় করতেন। নারী ও শিশু উন্নয়ন কর্মকর্তা দীনেশ মিশ্র জানান, জিজ্ঞাসাবাদে মঞ্জিলাল নিজেই সুদে টাকা ধার দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি প্রতিদিন সন্ধ্যায় সুদের টাকা সংগ্রহ করতেন বলেও জানান।
বর্তমানে মঞ্জিলালকে উজ্জয়িনীর সেবাধাম আশ্রমে পাঠানো হয়েছে। তার ব্যাংক হিসাব, সম্পত্তির কাগজপত্র এবং যারা তার কাছ থেকে ঋণ নিয়েছেন—সবকিছুই তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইন্দোরের ভিক্ষুকমুক্ত নগর গড়ার অভিযানের অংশ হিসেবেই এই ঘটনা সামনে আসে। এই কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে হাজারো মানুষকে পুনর্বাসন ও কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে ভিক্ষাবৃত্তি থেকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।