সারাবিশ্ব

নয়াদিল্লির হোটেলে আগুন: প্রাণ হারালেন এক বাংলাদেশি, মৃত বেড়ে ২২


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম

নয়াদিল্লির হোটেলে আগুন: প্রাণ হারালেন এক বাংলাদেশি, মৃত বেড়ে ২২
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২ জনে পৌঁছেছে। নিহত বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন।

হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, নিহত মোহাম্মদ নুরুল আমিনের বয়স ৪৪ বছর। চিকিৎসার জন্য স্বজনদের সঙ্গে তিনি দক্ষিণ দিল্লির মালভিয়া নগর এলাকার ওই হোটেলে অবস্থান করছিলেন। নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তারা সেখানে উঠেছিলেন।

বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে কাজ করছে মিশন।

গত বুধবার সকালে মালভিয়া নগরের বহুতল ভবনে থাকা হোটেলটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত ২২ জনের প্রাণহানি হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১২ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় অন্তত আটজন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে হাইকমিশন জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তারা দিল্লির বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নয়াদিল্লিতে কর্মরত বাংলাদেশি কূটনীতিকরা আহতদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। মিশনের প্রধান চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৯টার কিছু আগে হোটেলটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক অগ্নিনির্বাপণ ইউনিট কাজ করে। যৌথ উদ্ধার অভিযানে ৪০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার পর হোটেলের মালিক লভকেশ বাজাজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাকে চার দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হোটেলের ব্যবস্থাপক ও হিসাবরক্ষণ দায়িত্বে থাকা আরও দুজনকে খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

তদন্তে উঠে এসেছে, হোটেলটিতে দুই ডজনের বেশি কক্ষ থাকলেও অনুমোদন ছিল মাত্র ছয়টি কক্ষ পরিচালনার। এছাড়া অগ্নিনিরাপত্তা বিধিমালা লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগও পাওয়া গেছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভবনের নিচতলায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা দ্রুত পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিনিরাপত্তা বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।