সারাবিশ্ব

যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে বাতিল ও অবসরপ্রাপ্ত যুদ্ধবিমান কিনছে ভারত


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:০৫ পিএম

যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে বাতিল ও অবসরপ্রাপ্ত যুদ্ধবিমান কিনছে ভারত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্য থেকে বাতিল ও অবসরপ্রাপ্ত জাগুয়ার যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করছে ভারত। নিজেদের যুদ্ধবিমান বহরের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। পরিকল্পনা অনুযায়ী যুক্তরাজ্য থেকে মোট ৯টি অবসরপ্রাপ্ত জাগুয়ার যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করা হবে। তবে এসব বিমান সরাসরি উড্ডয়নের জন্য ব্যবহার করা হবে না, বরং যন্ত্রাংশ ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপাদান সংগ্রহের কাজে লাগানো হবে।

বর্তমানে স্কোয়াড্রন সংকট ও যন্ত্রাংশের ঘাটতির চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে ভারতীয় বিমানবাহিনী। অনুমোদিত ৪২টি স্কোয়াড্রনের বিপরীতে বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে ২৯টি স্কোয়াড্রন। জাগুয়ার যুদ্ধবিমানের ছয়টি স্কোয়াড্রন এখনও চালু থাকলেও পুরোনো বিমানের যন্ত্রাংশের অভাব বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এর আগে ফ্রান্স, ওমান এবং যুক্তরাজ্য থেকেও অবসরপ্রাপ্ত জাগুয়ার যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করেছিল ভারত। ২০১৮ সালে ফ্রান্স ৩১টি অবসরপ্রাপ্ত জাগুয়ার বিমান ও যন্ত্রাংশ হস্তান্তর করে। ওমান থেকেও ২০টির বেশি বিমান সংগ্রহ করা হয়, যেগুলো তুলনামূলক ভালো অবস্থায় ছিল।

বর্তমানে ভারতই বিশ্বের একমাত্র দেশ, যারা এখনও জাগুয়ার যুদ্ধবিমান পরিচালনা করছে। ১৯৮০-এর দশকে প্রথম এই যুদ্ধবিমান তাদের বহরে যুক্ত হয়। বিদেশ থেকে আনা পুরোনো বিমান থেকে ল্যান্ডিং গিয়ার, হাইড্রোলিক ব্যবস্থা, অ্যাভিওনিক্স এবং রোলস রয়েস অ্যাডুর ইঞ্জিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

ভারতীয় বিমানবাহিনী জানিয়েছে, গত এক দশকে জাগুয়ার বহরের অর্ধেক আধুনিকায়ন করা হয়েছে। তবে বাকি পুরোনো বিমানগুলোকে আর আধুনিকায়ন করা হয়নি এবং ধীরে ধীরে ২০২৮ সাল থেকে সেগুলো অবসরে যাবে।

আধুনিকায়িত জাগুয়ারগুলোতে উন্নত রাডার যুক্ত করা হয়েছে, যা একাধিক লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও অনুসরণ, ভূখণ্ডের মানচিত্র তৈরি এবং ইলেকট্রনিক জ্যামিং সক্ষমতা প্রদান করে। পাশাপাশি উন্নত ককপিট ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে।

একসময় পুরোনো ইঞ্জিন পরিবর্তনের জন্য বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে তা বাতিল করা হয়। ফলে বর্তমানে পুরোনো যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করে যন্ত্রাংশের ঘাটতি পূরণের কৌশল অব্যাহত রেখেছে ভারত।

এছাড়া থ্রিডি প্রিন্টিংসহ আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কিছু যন্ত্রাংশ তৈরি করা হলেও এখনো কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশের ঘাটতি রয়ে গেছে বলে জানা গেছে।