সারাবিশ্ব
‘কিছু দেশের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকবে কিন্তু ইরানের থাকবে না, এটা হতে পারে না’
ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কোনো উল্লেখ নেই এবং বিষয়টি কখনোই আলোচনায় আসেনি।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) ইসলামাবাদ সফররত ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন শেহবাজ শরিফ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েই বলছি, এই সমঝোতা স্মারকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের কোনো বিষয় নেই। এটি কখনো আলোচনার টেবিলে ছিল না, এমনকি ইরানও এ নিয়ে আলোচনা করতে চায়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি কোনো অনুমান নয়, বরং বাস্তব সত্য।’
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইলেকট্রনিকভাবে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। যার লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের অবসান এবং লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করা।
শেহবাজ শরিফ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দ্বিচারিতার সমালোচনা করে বলেন, ‘কিছু দেশের কাছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকবে, অথচ ইরানের থাকবে না—এটা গ্রহণযোগ্য নয়।’ তিনি এটিকে স্পষ্ট দ্বিমুখী অবস্থান হিসেবে আখ্যা দেন।
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু পক্ষ এই শান্তি চুক্তি ভণ্ডুলের চেষ্টা করছে। তাদের উদ্দেশ্য ইরানকে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি থেকে উঠে দাঁড়াতে না দেওয়া।
এছাড়া তিনি জানান, অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা চালিয়ে যাবে। সম্মান ও মর্যাদার ভিত্তিতে শান্তি প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইরানের সঙ্গে সংঘাতে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন পাকিস্তানের এই প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে সমবেদনা জানান এবং পাকিস্তানের জনগণের পক্ষ থেকে ইরানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টায় সমর্থন দেওয়ায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে ধন্যবাদ জানান শেহবাজ শরিফ।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধবিরতিতে অসন্তুষ্ট পক্ষগুলো নাশকতার চেষ্টা করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি জানান, অতীতের মতো ভবিষ্যতেও পাকিস্তান ও ইরান পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করবে।
আগামী সপ্তাহে তেহরান সফরের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় অংশ নিতে পাকিস্তানের একটি প্রতিনিধি দল পাঠানো হবে বলেও ঘোষণা দেন।