সারাবিশ্ব

জোর করে পুত্রবধূকে গোমূত্র পান করানোয় সাবেক এমপির বিরুদ্ধে মামলা


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৫:২১ পিএম

জোর করে পুত্রবধূকে গোমূত্র পান করানোয় সাবেক এমপির বিরুদ্ধে মামলা
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের মহারাষ্ট্রে সাবেক সংসদ সদস্য বিনায়ক রাউত ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কুসংস্কার চর্চা এবং গৃহনির্যাতনের অভিযোগে মামলা হয়েছে। তার পুত্রবধূ গিরিজা রাউতের অভিযোগ, তাকে জোর করে গোমূত্র পান করানো, তান্ত্রিক আচার পালনে বাধ্য করা এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, থানে জেলার এ ঘটনায় পুলিশ বিনায়ক রাউত, তার স্ত্রী, ছেলে এবং স্থানীয় কাউন্সিলর গীতেশ রাউতের বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্রের কুসংস্কারবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেছে। অভিযোগপত্রে ফিরোজ ও কাজি নামে দুই কথিত তান্ত্রিকের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

গিরিজা রাউতের দাবি, বিয়ের পর গত সাত বছর ধরে তিনি নিয়মিত মানসিক, সামাজিক ও আবেগগত নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। স্বামীর কথিত বন্ধ্যাত্ব সমস্যার সমাধানের কথা বলে তাকে বারবার তান্ত্রিকদের কাছে নেওয়া হতো। এক পর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক গোমূত্র পান করানো হয় এবং কুসংস্কারমূলক আচারের অংশ হিসেবে তার মাথার চুল ছিঁড়ে নেওয়া হয়।

সাংবাদিকদের কাছে তিনি বলেন, প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের বিরুদ্ধে এতদিন অভিযোগ করার সাহস পাননি। পরিবারের প্রধান হয়েও শ্বশুর বিনায়ক রাউত কখনো তার পক্ষে দাঁড়াননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

গিরিজা আরও জানান, বিয়ের পর উটিতে হানিমুনে গেলেও তার স্বামী শারীরিক সম্পর্ক এড়িয়ে চলতেন। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে তাকে অপমান করা হতো এবং দূরে সরিয়ে রাখা হতো। এমনকি স্বামী তাকে বলেছিলেন, ভারতের বাইরে গেলে তবেই তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক সম্ভব।

এ ছাড়া পারিবারিক নানা অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে অপমান, নিয়মিত মানসিক চাপ সৃষ্টি এবং মারধরের অভিযোগও করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরেও একই ধরনের আচরণের শিকার হন। সে সময় তাকে বলা হয়েছিল, শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করলে তার স্বামীর মৃত্যু হতে পারে।

পুত্রবধূর অভিযোগে শুধু স্বামী নয়, শ্বশুরবাড়ির অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, অশালীন আচরণ ও গৃহনির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।

তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।