সারাবিশ্ব

এবার মোদির পদত্যাগ দাবিতে অনশন শুরু ককরোচ জনতা পার্টির


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম

এবার মোদির পদত্যাগ দাবিতে অনশন শুরু ককরোচ জনতা পার্টির
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগ দাবি তুলেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। অনশনরত শিক্ষাসংস্কারক সোনম ওয়াংচুককে জোরপূর্বক হাসপাতালে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ দাবি জোরালো হয়েছে। একইসঙ্গে দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করেছেন।

শনিবার (১৮ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ করেন, পুলিশ বলপ্রয়োগ করে সোনম ওয়াংচুককে অনশনস্থল যন্তর মন্তর থেকে সরিয়ে নেয়। এ বিষয়ে তার পরিবারকেও কোনো ধরনের অবহিত করা হয়নি। তিনি বলেন, এভাবে আন্দোলন দমন করা যাবে না।

দীপকে আরও বলেন, “সরকার যদি মনে করে সোনম ওয়াংচুককে সরিয়ে দিলেই আন্দোলন থেমে যাবে, তবে তারা ভুল করছে। আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। ২০ জুলাই সংসদ ভবন অভিমুখে পূর্বঘোষিত পদযাত্রাও যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।”

তিনি জানান, শুরুতে তারা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করলেও সাম্প্রতিক ঘটনার পর এখন সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ককরোচ জনতা পার্টি জানায়, অভিজিৎ দীপকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনে রয়েছেন এবং ২০ জুলাইয়ের ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিও নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য, নয়াদিল্লিতে টানা ২১ দিন ধরে অনশন করছিলেন সমাজকর্মী ও শিক্ষাসংস্কারক সোনম ওয়াংচুক। গত ২৮ জুন থেকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ও পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে তিনি যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন।

শনিবার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তা সদস্য ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং পরে স্ট্রেচারে করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের মে মাসে ভারতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়। এর প্রতিবাদে যুবসমাজ ও সিজেপির ব্যানারে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। সোনম ওয়াংচুক সেই আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে অনশনে বসেন, যা বর্তমানে মোদি সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক চাপ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

সূত্র: ডয়চে ভেলে, দ্য হিন্দু