সারাবিশ্ব

ইরানে হামলা চার সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে: ট্রাম্প


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম

ইরানে হামলা চার সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে: ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরান-এ হামলা চালিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ চলাচল ও তেল বাণিজ্যে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

শনিবার রয়টার্স-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে যুদ্ধ কয়েক দিন থেকে শুরু করে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। এমনকি দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের পরিকল্পনাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এরই মধ্যে এক পৃথক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি জানিয়েছেন, ইরানে সামরিক অভিযান চার সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। ট্রাম্প বলেন, “এটি চার সপ্তাহের কাজ। আমরা চার সপ্তাহের মতো সময় লাগবে বলেই হিসাব করেছি। আয়তনের দিক থেকে ইরান অনেক বড় দেশ। সেখানে চার সপ্তাহ বা তার কিছুটা কম সময় লাগতে পারে।”

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় জানান, তার দেশের সেনারা ইরানের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘পরাজয় নিশ্চিত করার’ প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি দাবি করেন, চলমান হামলা থেকে শিক্ষা নিয়ে ইরান পাল্টা আঘাতের পরিকল্পনা করছে।

অন্যদিকে রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর পেন্টাগন দেশটির আইনসভা কংগ্রেস-কে জানিয়েছে—ইরান যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম হামলা চালাবে, এমন কোনো নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য তাদের কাছে ছিল না। রোববার এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকেও ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা একই কথা স্বীকার করেন।

তবে কর্মকর্তারা জানান, শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনিকে হত্যা করা হয়েছে, ইরানের কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং দেশটির এক হাজারের বেশি স্থানে হামলা চালানো হয়েছে।

এক দিন আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত পাওয়ার পরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নেন। এক কর্মকর্তা বলেন, “ট্রাম্প চুপচাপ বসে থাকবেন না। তিনি মার্কিন সেনাদের ওপর কোনো হামলা সহ্য করবেন না।”

তবে ওমান-এর মধ্যস্থতায় যখন ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চলছিল, ঠিক সেই সময় যুদ্ধের পথ বেছে নেওয়ায় বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করেছেন বলেও রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর বিপরীতে ট্রাম্প কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন না করেই দাবি করেছেন, ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে একাধিক সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী-ইরান যুক্তরাষ্ট্রে হামলা করতে পারে এমন কোনো সুস্পষ্ট তথ্য তাদের কাছে ছিল না; বিষয়টি অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করা হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্য শুধু নয়, বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতেও এর গভীর প্রভাব পড়তে পারে।