সারাবিশ্ব
খামেনির জানাজায় মানুষের কান্নায় বিস্মিত ট্রাম্প, বললেন ‘ভেবেছিলাম মানুষ তাকে ঘৃণা করে’
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় বিপুল মানুষের উপস্থিতি দেখে বিস্মিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এত দিন তিনি মনে করতেন ইরানের সাধারণ মানুষ তাদের সর্বোচ্চ নেতাকে সমর্থন করেন না। তবে জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতি ও শোক প্রকাশ তাকে বিস্মিত করেছে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, জানাজায় সমবেত মানুষের ওপর সামরিক হামলা চালানোর সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের ছিল। তবে ভবিষ্যতে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে তিনি এমন কোনো পদক্ষেপ নেননি বলে উল্লেখ করেন।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, খামেনির জানাজা ও শোক পালন শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন কোনো সামরিক হামলা না চালানোর বিষয়ে একটি অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা রয়েছে। তার দাবি, এ সময় উভয় পক্ষই সংঘাত এড়িয়ে চলবে।
এদিকে ইরানে ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোক চলছে। রাজধানী তেহরানের বৃহৎ নামাজের প্রাঙ্গণে লাখো মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হন। জাতীয় পতাকায় মোড়ানো খামেনির মরদেহের পাশাপাশি তার পরিবারের নিহত সদস্যদের কফিনও রাখা হয়। স্বজনদের মধ্যে এক শিশুর কফিন ও তার হাস্যোজ্জ্বল ছবি উপস্থিত মানুষের মধ্যে গভীর আবেগের সৃষ্টি করে।
শোকানুষ্ঠানে অংশ নেওয়া মানুষের হাতে লাল পতাকা দেখা যায়, যা শিয়া সংস্কৃতিতে প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। এ সময় সমবেত জনতা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং প্রতিশোধের দাবি জানান।
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, ইরানের বিভিন্ন অঞ্চল এবং প্রতিবেশী ইরাকের কয়েকটি স্থানেও পর্যায়ক্রমে শোকযাত্রা ও শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।