সারাবিশ্ব

মেলোনি আমার প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত, আইনি নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন: ট্রাম্প


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম

মেলোনি আমার প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত, আইনি নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন: ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্যক্তিগত ও কূটনৈতিক বিরোধের প্রেক্ষাপটে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সম্পাদিত ছবি শেয়ার করে দাবি করেছেন, মেলোনি তার প্রতি ‘অতিরিক্ত আসক্ত’ এবং তার বিরুদ্ধে আইনি নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন।

ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে দেওয়া এমন মন্তব্যে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রায় আশি বছর বয়সী ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে উনপঞ্চাশ বছর বয়সী মেলোনির সঙ্গে একটি এডিট করা ছবি পোস্ট করেন। সেখানে দেখা যায়, মেলোনি ট্রাম্পের দিকে তাকিয়ে হাসছেন। ছবির ক্যাপশনে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আইনি নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন’।

একই সময়ে ট্রাম্প সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও মিশেল ওবামাকে নিয়েও একটি বিকৃত ছবি পোস্ট করেন, যেখানে তাদের বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ানের গায়ে ব্যঙ্গচিত্র আঁকা দেখা যায়।

তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন ন্যাটো সম্মেলনে জোটভুক্ত বত্রিশটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে ট্রাম্প ও মেলোনির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে ট্রাম্পের এই আচরণ কূটনৈতিক মহলে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

দুই নেতার মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয় গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত জি-সেভেন সম্মেলনকে ঘিরে। ট্রাম্প দাবি করেন, ওই সম্মেলনে মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য বারবার অনুরোধ করেছিলেন। এমনকি তিনি ‘অনুনয়-বিনয়’ করেছিলেন বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

এই বক্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় ইতালি। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি তার নির্ধারিত ওয়াশিংটন সফর বাতিল করেন।

অন্যদিকে মেলোনি ট্রাম্পের অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট’ বলে উড়িয়ে দেন। ইতালির সংবাদ সংস্থা আদনক্রোনোসের বরাতে স্থানীয় টেলিভিশন রেতে ফোর-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ইতালি এবং আমি কখনোই কারও কাছে ভিক্ষা করি না।’

মেলোনি আরও জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী নন এবং কখনো কারও সামনে নত হননি, ভবিষ্যতেও হবেন না। তার মতে, পশ্চিমা বিশ্বের শক্তি ঐক্যের মধ্যে নিহিত এবং ইতালি সেই ঐক্যের অংশ হিসেবেই কাজ করে যাচ্ছে। তবে দৃঢ় সম্পর্কের জন্য স্পষ্টবাদিতা জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপে ইতালির অনীহা এবং ইউরোপের জ্বালানি ও অভিবাসন নীতি নিয়ে ট্রাম্পের সমালোচনার জেরেই দুই নেতার সম্পর্কের অবনতি হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি