আইন আদালত
আনাসসহ ৬ হত্যাকাণ্ড: সাবেক ডিএমপি কমিশনারসহ ৮ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিচার শুরু
রাজধানীর চাঁনখারপুলে আনাসসহ ছয় তরুণকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠন করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হলো।
সোমবার (১৪ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
আদালত একইসঙ্গে মামলার সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপনের জন্য ৬ আগস্ট এবং রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৭ আগস্ট দিন নির্ধারণ করেছেন।
মামলায় অভিযুক্ত আট আসামির মধ্যে চারজন পলাতক। তারা হলেন—সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ্ আলম মো. আখতারুল ইসলাম এবং সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল। তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী কুতুবউদ্দিন মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করেছেন।
অপর চার আসামি বর্তমানে কারাগারে আছেন। তারা হলেন—শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক মো. আরশাদ হোসেন, সাবেক কনস্টেবল মো. সুজন হোসেন, ইমাজ হোসেন এবং মো. নাসিরুল ইসলাম।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন টিম গত ২৫ মে এই মামলার ফরমাল চার্জ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে এবং ২৯ জুন চার্জ গঠনের জন্য আবেদন জানায়। আদালত সব তথ্য পর্যালোচনা করে সোমবার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন।
চার্জশিট অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালীন সময় চাঁনখারপুল এলাকায় পুলিশের গুলিতে ছয়জন তরুণ নির্মমভাবে নিহত হন। নিহতরা হলেন—শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদি হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক এবং মানিক মিয়া।
এই হত্যাকাণ্ডকে সারাদেশে সংগঠিত পরিকল্পিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে চার্জশিটে। প্রসিকিউশন পক্ষের মতে, এটি ছিল একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সহিংসতা, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্বারা সংগঠিত হয় এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমন করার অপচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত।
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই পদক্ষেপ দেশের বিচারব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকছে বলে মনে করছেন আইনজ্ঞ মহল।