আইন আদালত

মেঘনা আলমের ল্যাপটপ-মোবাইলে রাষ্ট্রবিরোধী তথ্য আছে কিনা তদন্তের নির্দেশ আদালতের


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৫, ০২:১৩ পিএম

মেঘনা আলমের ল্যাপটপ-মোবাইলে রাষ্ট্রবিরোধী তথ্য আছে কিনা তদন্তের নির্দেশ আদালতের
মডেল মেঘনা আলম। ছবি: সংগৃহীত

প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে রাজধানীর ধানমণ্ডি থানায় দায়ের হওয়া মামলায় মডেল মেঘনা আলমের জব্দ করা ম্যাকবুক, ল্যাপটপ ও মোবাইলে রাষ্ট্রবিরোধী কোনো উপাদান রয়েছে কিনা, তা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

একইসঙ্গে এসব ডিভাইসের প্রকৃত মালিকানা যাচাই করে আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এম এ আজহারুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন। শুনানির সময় মেঘনা আলম আদালতে হাজির ছিলেন। সকাল ১১টা ৯ মিনিটে শুনানি শুরু হয়। কাঠগড়ায় মেঘনা জায়নামাজ হাতে উপস্থিত হন।

শুনানিতে মেঘনার আইনজীবী মহসিন রেজা ও মহিমা বাঁধন তার ম্যাকবুক, ল্যাপটপ, মোবাইল ও পাসপোর্ট ফেরতের আবেদন করেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ তা বিরোধিতা করে বলেন, মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর। ডিভাইসগুলো ব্যবহার করে মেঘনা কোন ব্যবসায়ী বা কূটনীতিককে ব্ল্যাকমেইল করতেন, তা তদন্তে জানা প্রয়োজন। ফলে তদন্তের স্বার্থে আবেদনটি নামঞ্জুর করার অনুরোধ জানানো হয়।

শুনানিকালে মেঘনা আলম আদালতের উদ্দেশে বলেন, "আমার সঙ্গে বিভিন্ন রাষ্ট্রদূতের পেশাগত সম্পর্ক রয়েছে। সৌদি রাষ্ট্রদূত ইশা আমাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলেছিল, যার যথেষ্ট প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে। আমি প্রমাণ করতে পারব কে কাকে ফাঁদে ফেলেছে।" তবে আদালত বিষয়টি এখন আলোচনার নয় বলে মন্তব্য করেন।

মেঘনা আরও বলেন, “বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আমার ওপর নির্ভর করে। আমি ছয়টি মহাদেশের ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজ করি। আমার ব্যবহৃত ডিভাইস ও পাসপোর্ট ফেরত চাই।”

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাল্টা বলেন, “মামলার এজাহার অনুযায়ী, তিনি নারীদের দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করতেন।” এই বক্তব্যে প্রতিবাদ জানিয়ে মেঘনা বলেন, “আপনি রাষ্ট্রদূতকে অসম্মান করছেন।” এরপর উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। মেঘনা বলেন, “এখন পর্যন্ত আমি নিরপরাধ।”

এর আগে, গত ১০ এপ্রিল বিশেষ ক্ষমতা আইনে মেঘনাকে ৩০ দিনের জন্য আটক দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে আটকাদেশ বাতিল হলে, ১৭ এপ্রিল ধানমণ্ডি থানার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর ২৮ এপ্রিল আদালত মেঘনাকে জামিন দেন এবং ২৯ এপ্রিল তিনি কারামুক্ত হন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, মেঘনা আলম ও দেওয়ান সমিরসহ আরও কয়েকজন একটি সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্রের সদস্য। তারা সুন্দরী তরুণীদের মাধ্যমে বাংলাদেশে কর্মরত বিভিন্ন বিদেশি কূটনীতিক ও দেশীয় ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে, পরে অবৈধ সম্পর্কের ছবি বা তথ্য ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায় করতেন।

দেওয়ান সমির কাওয়াই গ্রুপের সিইও এবং সানজানা ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি ম্যানপাওয়ার প্রতিষ্ঠানের মালিক। মিরআই ইন্টারন্যাশনাল ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে তার। এসব প্রতিষ্ঠানে তরুণীদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নিয়োগ দিয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে সহজ যোগাযোগের ব্যবস্থা করতেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।