আইন আদালত

আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের মামলা বাতিল করে হাইকোর্টের রায়


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৫, ০৬:২৪ পিএম

আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের মামলা বাতিল করে হাইকোর্টের রায়
আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় দায়ের করা মামলা বাতিল করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম এবং বিচারপতি তামান্না রহমান খালিদীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ আজ এই মামলার রুল যথাযথ ঘোষণা করে মামলাটি বাতিল করেন।

আদালতে শহিদুল আলমের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার সারাহ হোসেন ও অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল নোমান।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৫ আগস্ট রাতে রাজধানীর ধানমন্ডির নিজ বাসা থেকে শহিদুল আলমকে তুলে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন, অর্থাৎ ৬ আগস্ট, তার বিরুদ্ধে রমনা থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ ছিল—তিনি নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় ‘উসকানিমূলক ও মিথ্যা তথ্য’ প্রচার করেছিলেন। ওই মামলায় শহিদুল আলমকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ এবং পরে তিনি প্রায় ১০৭ দিন কারাভোগ করেন। ২০১৮ সালের ২০ নভেম্বর জামিনে মুক্তি পান তিনি।

পরবর্তীতে ২০১৮ সালের অক্টোবরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কার্যকর হলে, পুরনো আইনে চলমান মামলাগুলোর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে ২০১৯ সালের ৩ মার্চ শহিদুল আলম রিট দায়ের করে মামলার তদন্ত কার্যক্রম চ্যালেঞ্জ করেন। একই বছরের ১৫ মার্চ হাইকোর্ট তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত করে রুল জারি করেন।

তবে ২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর হাইকোর্ট শহিদুল আলমের রিট খারিজ করে দেয়, যার বিরুদ্ধে তিনি আপিল বিভাগে আবেদন করেন। ২০২২ সালের ২৭ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল খারিজ করে দেন।

এরপর মামলার এফআইআর ও তদন্ত কার্যক্রম বাতিল চেয়ে পুনরায় হাইকোর্টে আবেদন করেন শহিদুল আলম। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি ইকবাল কবির ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ নতুন করে তদন্ত স্থগিত করে মামলা বাতিল প্রশ্নে রুল জারি করেন। সেই রুল নিষ্পত্তির মাধ্যমে আজ মামলাটি সম্পূর্ণভাবে বাতিল হলো।

মানবাধিকার সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো শুরু থেকেই এই মামলাকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে অভিহিত করে আসছিল। হাইকোর্টের এ রায়ে মানবাধিকারকর্মী ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করা সংগঠনগুলোর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।