আইন আদালত

ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান-এমডিসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:৪৪ পিএম

ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান-এমডিসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
ছবি: সংগৃহীত

এলসি জালিয়াতির অভিযোগে বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংক পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)সহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে চট্টগ্রামের একটি আদালত। 

রোববার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট চতুর্থ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোস্তফার প্রতিবেদনের ওপর শুনানি শেষে এই আদেশ দেওয়া হয়।

এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির এসআই মো. আব্দুল করিম আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন। প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই শুনানি শেষে আদালত পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।

পরোয়ানাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন: ইসলামী ব্যাংক পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান ওবাইদুল্লাহ মাসুদ, সাবেক এমডি মনিরুল মাওলা, খুলশী শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মোরশেদুল আলম, সাবেক সেকেন্ড অফিসার মো. মহিউদ্দিন, সাবেক বৈদেশিক মুদ্রা কর্মকর্তা মুহাম্মদ জুবাইর, জুনিয়র অফিসার মুহাম্মদ রাফায়াতন ও এসইভিপি ও হেড অব জোন (দক্ষিণ) এম. জুবাইর আজম হেলালী। 

২০২১–২২ সালে সৌদি আরব থেকে খেজুর আমদানির উদ্দেশ্যে খুলশী শাখার মাধ্যমে অন্তত ২৫টি লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) খুলেছিলেন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ নুরুল হুদা। নিয়ম অনুযায়ী তিনি প্রতিবারই এলসির বিপরীতে প্রয়োজনীয় অর্থ ও কাগজপত্র ব্যাংকে জমা দেন। কিন্তু করোনাকালে ব্যবসা স্থবির হয়ে আমদানি সাময়িক বন্ধ থাকলে সুযোগ নেয় কিছু ব্যাংক কর্মকর্তা। নুরুল হুদার অজ্ঞাতে তার নামে অতিরিক্ত এলসি খুলে অর্থ তোলেন তারা। পরবর্তীতে এই অতিরিক্ত এলসির অর্থ পরিশোধ না করায় ব্যবসায়ীর জমা রাখা চেক ডিজঅনার হয় এবং তার নামে অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও কোনও প্রতিকার না পেয়ে নুরুল হুদা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান, এমডি ও শাখা কর্মকর্তাসহ মোট নয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। মামলার আইনজীবী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, তদন্ত প্রতিবেদনে তালিকাভুক্ত দুজনের মধ্যে একজনের নাম ভুল এবং অন্যজন ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকায় তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। বাকি সাতজনের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

২০২৫ সালের ২৩ মার্চ দায়ের করা মামলায় দণ্ডবিধির ৪৬৭, ৪৬৮, ৪২০, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয় এবং আদালত সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন।