আইন আদালত
রামিসা হত্যা মামলা: প্রথম দিনেই সব সাক্ষ্য শেষ, আত্মপক্ষ সমর্থন বুধবার
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের প্রথম দিনেই অধিকাংশ সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন, ফলে এ পর্যায়ের কার্যক্রম শেষ হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে আদালত আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আগামী বুধবার (৩ জুন) দিন নির্ধারণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু।
সাক্ষ্য প্রদানকারীদের মধ্যে ছিলেন নিহত শিশুর বাবা ও মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা, মা পারভীন আক্তার, বড় বোন রাইসা আক্তারসহ আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা। এছাড়া পুলিশ সদস্য, চিকিৎসক ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও আদালতে সাক্ষ্য দেন।
মামলার বাদীর জবানবন্দির মধ্য দিয়ে দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর একে একে অন্যান্য সাক্ষীরা আদালতে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কলিমউল্লাহ তাদের জেরা করেন।
এর আগে সকালেই প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। পরে তাদের আদালতের এজলাসে হাজির করা হয়।
গত সোমবার আদালত সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে সাক্ষীদের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়। এর আগে ২৪ মে আদালত মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, রামিসা একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর অভিযুক্ত স্বপ্না কৌশলে তাকে নিজের কক্ষে নিয়ে যায়। পরে শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে তার বাবা-মা অভিযুক্তের কক্ষের সামনে জুতা দেখতে পান। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তারা শিশুটির মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করেন।
ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবায় খবর দিলে পুলিশ এসে স্বপ্নাকে আটক করে। একই দিন তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন নিহতের বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।