আইন আদালত
পাঁচ কর্মদিবসেই তাবাসসুম হত্যা মামলার রায়, আসামির মৃত্যুদণ্ড
ঝিনাইদহের বহুল আলোচিত শিশু তাবাসসুম ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি আবু তাহেরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় ঝিনাইদহ শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সালেহুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।
সরকারের বিশেষ উদ্যোগে মাত্র পাঁচ কর্মদিবসে মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হওয়ায় বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত শিশুর পরিবার ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বাদুড়গাছা গ্রামে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চার বছর বয়সী তাবাসসুমকে নিজের ঘরে নিয়ে যায় আবু তাহের। সেখানে শিশুটির ওপর নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে শিশুটি চিৎকার শুরু করলে তার মুখ ও নাক চেপে ধরা হয়। এতে শ্বাসরোধে তার মৃত্যু ঘটে।
ঘটনার পর প্রমাণ গোপন করতে শিশুটির মরদেহ একটি বস্তায় ভরে পাশের একটি বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখা হয়।
এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে কুষ্টিয়া শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে আবু তাহেরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তিনি পুলিশের কাছে এবং আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
তদন্ত শেষে গত ২৬ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ১৬ জুন মামলার শুনানি শুরু হয়। এরপর দ্রুত সময়ের মধ্যে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক সম্পন্ন করে আদালত রায়ের দিন নির্ধারণ করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আবু তাহের কালীগঞ্জ উপজেলার ফরাসপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন এবং নিহত শিশুর বাড়ির পাশেই ভাড়া থাকতেন।
রায় ঘোষণার পর তাবাসসুমের বাবা নজরুল ইসলাম সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করায় সরকারের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে উচ্চ আদালতেও এ রায় বহাল থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আকিদুল ইসলাম বলেন, আসামির বিরুদ্ধে সব তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্য আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। আদালত প্রত্যাশিত রায় দিয়েছেন। এখন উচ্চ আদালতেও এ দণ্ড বহাল থাকবে বলে তারা আশাবাদী।