আইন আদালত

নিজেদের করা আইনেই আওয়ামী লীগের বিচার হচ্ছে: চিফ প্রসিকিউটর


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম

নিজেদের করা আইনেই আওয়ামী লীগের বিচার হচ্ছে: চিফ প্রসিকিউটর
ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের প্রণয়ন করা আইনেই দলটির বিচার করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, দীর্ঘ শাসনামলে আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটির আওতায় দলটির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের দায় উঠেছে। আইন অনুযায়ী এসব অপরাধের বিচার করার সুযোগ রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন-১৯৭৩ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০০৯—এই দুটি আইন আওয়ামী লীগ সরকারই প্রণয়ন করেছিল এবং এসব আইনে সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিচারের বিধান রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ৪ জুলাই একটি স্মরণসভায় দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি তিনি গণমাধ্যমের মতোই শুনেছেন বলে জানান। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন প্রণয়ন করে। পরে ২০১০ সালে একই আইনে ট্রাইব্যুনাল গঠন করে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু করা হয়। ২০১৩ সালে সংশোধনের মাধ্যমে ‘সংগঠন’ শব্দটি যুক্ত করা হয়। এছাড়া ২০০৯ সালে সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রণয়ন করে সংগঠনের বিচার করার সুযোগ রাখা হয়।

জামায়াতকে নিষিদ্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ ধারা ব্যবহার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার। দল নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন আইনগত কাঠামো তারাই তৈরি করেছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন-১৯৭৩ অনুযায়ী বর্তমানে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলছে এবং একই আইনের আওতায় দল হিসেবেও আওয়ামী লীগের বিচার হতে পারে।

চিফ প্রসিকিউটর অভিযোগ করে বলেন, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ সরকার দেশে এক ধরনের ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করে, যার মাধ্যমে জনগণের রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি দাবি করেন, দলটির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে, যা তদন্তাধীন। তদন্ত সংস্থা এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই করছে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।