লাইফস্টাইল
ভূমিকম্পের আগে, চলাকালীন ও পরে যা করবেন
ভূমিকম্প সাধারণত খুব বেশি সময় স্থায়ী হয় না, কিন্তু সেই কয়েক সেকেন্ডই হতে পারে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকা ও সঠিক পদক্ষেপ নেওয়াই জীবন রক্ষার মূল চাবিকাঠি।
নিচে ভূমিকম্পের আগে, চলাকালীন এবং পরে করণীয়গুলো সহজভাবে তুলে ধরা হলো—
ভূমিকম্পের সময় যা করবেন
আপনি যদি ঘরের ভেতরে থাকেন: ড্রপ, কাভার ও হোল্ড অন পদ্ধতি অনুসরণ করুন—
- মেঝেতে বসে পড়ুন, মজবুত টেবিল বা আসবাবের নিচে আশ্রয় নিন এবং পা শক্ত করে ধরে রাখুন।
- মাথায় আঘাত এড়াতে হেলমেট ব্যবহার করুন বা হাত দিয়ে মাথা ঢেকে রাখুন।
- বিছানায় থাকলে বালিশ দিয়ে মাথা রক্ষা করুন।
- ঘরের ভেতরের দিকের দেয়ালের কাছাকাছি নিরাপদ স্থানে অবস্থান করুন।
- বাইরের দেয়াল বা কাচের জানালার কাছে যাবেন না।
- ফ্যান, সুইচ বা বৈদ্যুতিক যন্ত্রের সামনে থাকলে এগুলো বন্ধ করে দিন।
- রান্নাঘরে চুলা জ্বালানো থাকলে চলাকালীন বা কম্পন থামার সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করুন।
- বহুতল ভবনে থাকলে কম্পন থামা পর্যন্ত ভেতরেই থাকুন।
- ভূমিকম্প থামলে লিফট নয়, সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামুন।
আপনি যদি বাইরে থাকেন
- সঙ্গে সঙ্গে খোলা জায়গায় আশ্রয় নিন।
- ভবনের প্রান্তভাগ, পাহাড়ের পাদদেশ বা যেখানে কিছু পড়ে মাথায় লাগতে পারে—এমন জায়গা থেকে দূরে থাকুন।
- লাইটপোস্ট, বৈদ্যুতিক তার, বড় গাছের নিচে দাঁড়াবেন না।
- রাস্তায় দৌড়াদৌড়ি করবেন না—ওপরে থেকে কাচ বা অন্য কিছু পড়ে দুর্ঘটনা হতে পারে।
- গাড়িতে থাকলে সবচেয়ে কাছের খোলা স্থানে গাড়ি থামান, কিন্তু ব্রিজ বা ফ্লাইওভারের ওপর থামবেন না।
ভূমিকম্পের পর যা করবেন
- বড় ভূমিকম্পের পরে আফটারশকের (আরো ছোট কম্পন) সম্ভাবনা থাকে—মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকুন।
- কম্পন থামার পরও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে বের হোন—ঝুলন্ত জিনিস বা ঢিলা অংশ পরে পড়ে যেতে পারে।
- পরিবার ও আশপাশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।
- বাড়ির চারপাশ পরীক্ষা করুন—কোনো ফাটল বা ক্ষতি দেখা গেলে সতর্ক থাকুন।
- গ্যাসের গন্ধ পেলে সঙ্গে সঙ্গে জানালা খুলে বাইরে চলে যান এবং গ্যাসলাইন পরীক্ষা বা মেরামতের ব্যবস্থা করুন।
- কোথাও বৈদ্যুতিক স্পার্ক দেখলে মেইন সুইচ বন্ধ করুন।
- ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলে ফায়ার সার্ভিসে যোগাযোগ করুন।
- আগুন লাগার সম্ভাবনা বিবেচনায় ফায়ার এক্সটিংগুইশার কাছে রাখুন এবং জরুরি নম্বরগুলো ফোনে সংরক্ষণ করুন।
ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সচেতনতা ও প্রস্তুতির বিকল্প নেই। নিজের পরিবার ও আশপাশের মানুষকে এসব নির্দেশনা জানিয়ে রাখলে বিপদের সময় জীবন বাঁচানো সম্ভব।