লাইফস্টাইল

ডায়াবেটিস আক্রান্ত দেশের মধ্যে শীর্ষ দশে বাংলাদেশ 


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:৩৭ পিএম

ডায়াবেটিস আক্রান্ত দেশের মধ্যে শীর্ষ দশে বাংলাদেশ 
ছবি: সংগৃহীত

দেশে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বর্তমানে প্রতি ৯ জনের মধ্যে ১ জন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। এ সংখ্যা প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মধ্যে আরও বেশি, অর্থাৎ দেশের প্রতি ৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মধ্যে ১ জন ডায়াবেটিসে ভুগছেন।

বিশ্বের শীর্ষ ১০ ডায়াবেটিস উচ্চহার দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৭ম (বাংলাদেশ : ১৪.২%)। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে হারে ডায়াবেটিস রোগ বাড়ছে, তাতে আগামী ২০৩০-২০৪৫ সালের মধ্যে শীর্ষ দেশের তালিকায় উঠে আসবে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের যৌথ সমীক্ষা, আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিক ফেডারেশন ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য থেকে ডায়াবেটিসের এমন চিত্র পাওয়া গেছে:

পাকিস্তান: ৩০.৮%, কুয়েত: ২৪.৯%, মিশর:২০.৯%, কাতার: ১৯.৫%, মালয়েশিয়া: ১৯%, সৌদি আরবিয়া: ১৮.৭%, মেক্সিকো: ১৬.৯%, বাংলাদেশ: ১৪.২%, শ্রীলংকা: ১১.৩%, দক্ষিণ আফ্রিকা: ১০.৮%, ইরাক: ১০.৭%, যুক্তরাষ্ট্র: ১০.৭%, ইন্দোনেশিয়া: ১০.৬%, চায়না: ১০.৬%, স্পেন: ১০.৩%,থাইল্যান্ড: ৯.৭%

আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিক ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রাপ্তবয়স্ক (২০-৮০ বছর) মানুষদের মধ্যে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা প্রায় ৮৫ লাখ। সে হিসাবে প্রতি ৯ জনের মধ্যে একজন ডায়বেটিসে আক্রান্ত। সমসংখ্যক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ডায়াবেটিসের ঝুঁকির (প্রি-ডায়াবেটিস) মধ্যে রয়েছে।

diabetics 1.jpg
ছবি: সংগৃহীত

আইডিএফের ২০২৫ সালের আগস্টে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত বছর বিশ্বে ডায়াবেটিসে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৩৪ লাখ। অর্থাৎ, প্রতি ৯ সেকেন্ডে একজন মানুষ এ রোগে প্রাণ হারাচ্ছেন।

গত ১৭ বছরে ডায়াবেটিসজনিত স্বাস্থ্য ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ ট্রিলিয়ন ডলার, যা বৃদ্ধির হার ৩৩৮ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যয়ের বোঝা সবচেয়ে বেশি চাপ ফেলছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। যেখানে প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা ও প্রাথমিক শনাক্তকরণ ব্যবস্থার ঘাটতি সবচেয়ে প্রকট।

প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা আরও বেড়ে ৮৫৩ মিলিয়নে পৌঁছাবে। এর ৮১ শতাংশই থাকবে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। জীবনযাত্রার পরিবর্তন, নগরায়ন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, স্থূলতা এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার কারণে বিশেষভাবে বাড়ছে টাইপ-২ ডায়বেটিসের প্রকোপ, যা সাধারণত অতিরিক্ততার রোগ হিসেবেই পরিচিত।

ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখনই জোর দিতে হবে প্রতিরোধ, সময়মতো রোগ শনাক্তকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে। একইসঙ্গে স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নিয়মিত স্ক্রিনিং জরুরি হয়ে উঠেছে।